জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মাটি এখন অনিরাপদ।আমরা এমন দেশে বাস করি যেখানে শিশু তার মায়ের কাছে নিরাপদ নয়। প্রতিদিন হত্যা পর হত্যা চলছে। মনে হয় যেন সভ্য যুগের অসভ্য বর্বরতা। প্রতিনিয়ত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে নীলফামারী জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ দূত আরোও বলেন, কে কাকে হত্যা করছে দেশবাসী সব জানে। দেশে আজ আইনের শাষন বিলুপ্ত। চলছে লুটপাটের রাজত্ব। অন্যের জমি থেকে শুরু করে আজ মসজিদ-মন্দির দখলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে সরকারী দল। এভাবে দেশ চলতে পারে না। মানুষ আজ পরিবর্তন চায়।

নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক শওকত চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্টানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ব্যারিষ্টার হামিদ পাটোয়ারী, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, জেলা জাপা নেতা শাহাজাহান চৌধুরী, রশিদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, সাজ্জাদ পারভেজ প্রমুখ।

এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিকে ধংস করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে ৪৬টি মামলা দেয়া হয়েছিল। সব মামলা থেকে মুক্তি পেলেও এখনো ২টি মামলা রয়েছে। আমাকে ভয় পায় এবং জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে বলে রাজনৈতিক ভাবে এই ২টি মামলা থেকে আমাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।

এরশাদ আরো বলেন, জাতীয় পার্টির বিভিন্ন জেলা কাউন্সিলগুলোতে উপস্থিত হয়ে আমি দেখেছি জাতীয় পার্টির প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা বেড়েছে। তাই আগামীতে জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি আগামী ১৬ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলকে সফল করার জন্য সবাইকে আহবান জানান।

পরে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকীকে সভাপতি, আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী এমপিকে সাধারণ সম্পাদক,শাহাজাহান চৌধুরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাজ্জাত পারভেজকে যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করেন।

এসটি