রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং বরিশালে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেট সিটি নির্বাচনে সর্বশেষ পাওয়া ফলাফলে জানা গেছে। ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে কামরান পেয়েছেন ৭০ হাজার আটশ’৯৪ ভোট। আরিফুল হক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ছয়শ ৭৩ ভোট।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৮০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪১ ভোট।
আজ(সোমবার) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সিটির মোট ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তবে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান এত বেশি যে, পরবর্তীতে মেয়র পদে এসব কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠানের প্রয়োজন পড়বে না।
তবে অনিয়মের অভিযোগ এনে সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপিসহ তিন দলের মেয়র প্রার্থী। অন্য দুই মেয়র প্রার্থী হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওবায়দুর রহমান মাহবুব এবং বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী। পাশাপাশি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন আরও দুই মেয়র প্রার্থী।
রাজশাহীতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী লিটন
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
১৩৮ কেন্দ্রে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৩২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩১২ ভোট।
বুলবুলের চেয়ে ৮৭ হাজার ২০ ভোট বেশি পেয়েছেন লিটন।
আজ(সোমবার) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। লাগাতার ৮ ঘণ্টা ভোটগ্রহণকালীন বিভিন্ন কেন্দ্রে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাজশাহীর ৩০নং ওয়ার্ডের বিনোদপুরের ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ার বলেন, ভোট শুরু হওয়ার আগেই নৌকায় সিল মারা হয়েছে। সেটি এখনও অব্যাহত। ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে যার কারণে আমি এই ভোট বর্জন করলাম।তবে তিন সিটি ভোটে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, সব মিলিয়ে নির্বাচন ভালো হয়েছে। অনিয়মের কারণে বরিশালের ১৫টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ও একটি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।
দুপুরের আগেই মেয়রের ব্যালট শেষ, ভোট দিলেন না বুলবুল
কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিলেন না রাজশাহী সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। জালভোট ও ক্ষমতাসীনদের শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে নিজ ভোটকেন্দ্র ইসলামিয়া কলেজে দুপুরের পর থেকে অবস্থান নিয়েছিলেন বুলবুল।
ওই কেন্দ্রে দুপুরের আগেই মেয়র প্রার্থীর ব্যালট শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ আসে। এ খবর পেয়ে বুলবুল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে ব্যালটের হিসাব চান।
নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠেই বসে পড়েন তিনি। সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুও তার সঙ্গে অবস্থান নেন। বুলবুল বলেন, ব্যালটের হিসাব না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।
আজ (সোমবার) দুপুরে ইসলামিয়া কলেজ মাঠে বসে বুলবুল বলেন, সকাল থেকে তিনি ৩৫টি কেন্দ্রে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন। সবগুলো কেন্দ্রেই তিনি অনিয়ম দেখেছেন।
এর পরই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর কোনো কেন্দ্রে তিনি যাবেন না। অনিয়মের প্রতিবাদে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাটিতে বসে থেকেই অবস্থান ধর্মঘট চালানোর বলেন তিনি।
নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দুপুরের মধ্যে মেয়রের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এখন কাউন্সিলরদের ভোট চলছে। এটা পরে উনারা পূরণ করবেন।
নিজে ভোট দিবেন কি না জানতে চাইলে গতবারের এই মেয়র বলেন, বিপন্ন গণতন্ত্রে আমার ভোটের কোনো দাম নেই। অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও ভোট দিতে যাননি। খোঁজ নিলে দেখা যাবে ২০ শতাংশও ভোট পড়েনি।
বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। শেষ পর্যন্ত বুলবুল নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকেন।
এমবি





