কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার।
গত বুধবার খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এ চিঠি দেন। তবে চিঠিতে প্যারোলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। একাধিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, চিঠিতে শামীম ইস্কান্দার জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হোক। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম ইস্কান্দার কিংবা খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকার ও বিএনপি এবং তার পরিবারের মধ্যে একটা সমঝোতা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জামিন পেলে বিদেশে যাবেন এমন কথা উল্লেখ করে পুনরায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবীরা। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনে নতুন কোন কারণ না পাওয়ায় কথা জানিয়ে তা খারিজ করে দেন।
এর ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সংকুচিত হয়ে যায়। ফের সামনে চলে আসে প্যারোলের বিষয়টি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে তার সাময়িক মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে খালেদা জিয়ার সম্মতিও রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, পরিবারের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখালে খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ব্যাপারে তার সম্মতি নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছে। শনিবারও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন। সেখানে তারা জামিন ও প্যারোলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, তার অবস্থা খুবই খারাপ। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে। তথ্য সূত্র- নয়া দিগন্ত
এদিকে, কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে মানবিক বিবেচনায় মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম।
শনিবার (০৭ মার্চ) বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই আহ্বান জানান তিনি।
মেজো বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, উনার স্বাস্থ্যের অবস্থা আগের মতোই আছে। কোনোকিছুর পরিবর্তন হয়নি। শ্বাসকষ্টের কারণে উনি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। তার বাম হাতটা সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না, খেতে পারছে না, খেলে বমি হয়ে যাচ্ছে।
খালেদা জিয়ার মামলার সর্বশেষ যে জামিন আবেদন করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি সবকিছু জানেন কি-না?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সেলিমা ইসলাম বলেন, উনি এসব বিষয়ে সব কিছু জানেন। আমরা মনে করি মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেয়া উচিত। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। এতকিছুর পরেও আমরা তাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে পারবো কিনা সেটা নিয়ে সন্দিহান। আমরা তো বলছি, সরকার অন্তত মানবিক দিকটা বিবেচনা করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিক।
আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় সেলিমা ইসলাম ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন- ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাতিজা অভিক ইস্কান্দার, ভাগ্নি সামিয়া ইস্কান্দার।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদারও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলাতেও তার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ০১ এপ্রিল থেকে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ৩৬টি রয়েছে।
এমবি





