মহাখালী বাস টার্মিনালে অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো যাত্রী। এর মধ্যে হঠাৎ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আগমন। সরেজমিনে টার্মিনাল পরিদর্শনে এসেছেন তিনি।

মধ্যবয়সী এক নারীর কাছে এসে মন্ত্রী জানতে চাইলেন, টিকিট পেয়েছেন? জবাব দিতে শুরু করলেও মন্ত্রীর প্রশ্নের ধারেকাছে গেলো না ওই নারী যাত্রীর কথাবার্তা। গলা চড়িয়ে বলতে শুরু করলেন, রাস্তা তো খারাপ। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বেহাল অবস্থা। আগে রাস্তা ঠিক করে দেন।

তার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আর এক যাত্রীর অভিযোগ। তারপর আরো একজন। এভাবে বাড়তে থাকে অভিযোগকারী যাত্রীর সংখ্যা। মহাসড়কের বেহাল দশা আর যানজট প্রসঙ্গই আসে ঘুরে ফিরে। ওঠে ঈদের সময়ে পরিবহন সার্ভিসগুলোর বাড়তি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ।

মহাখালী বাস টার্মিনালে মন্ত্রী আসেন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার। মন্ত্রীকে হাতের নাগালে পেয়েই যেন অভিযোগের ঝাঁপি খুলে বসেন ময়মনসিংহগামী যাত্রীরা।  এনা পরিবহনের একটি বাসে বসে তারা অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রাশুরুর। 

মন্ত্রীকে বলেন, রাস্তার বেশিরভাগ ভাঙ্গা। আরামে এ রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না।

জবাবে মন্ত্রী তাদের জানান, অপেক্ষা করেন। মার্চের পরে রাস্তা ঠিক হয়ে যাবে।

এরপর মন্ত্রী টার্মিনালের ভেতরে গিয়ে টিকিট পেয়েছেন কিনা বিভিন্ন যাত্রীর কাছে তা জানাতে চান মন্ত্রী। 

দূর থেকে যাত্রীদের কেউ কেউ মন্ত্রীকে দেখে রাস্তায় দুর্ভোগের কথা জানান। কেউ বা ঢাকার প্রবেশপথগুলোর যানজট সরাতে উদ্যোগ নিতে বলেন। মন্ত্রী তাদের হাত নেড়ে রাস্তা ঠিক করার আশ্বাস দেন।

পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মার্চের পরে সড়কে দুর্ভোগ থাকবে না। তবে যাত্রীরা যদি যাওয়ার আগেই বলে ফেলেন রাস্তা দুর্ভোগে ভরা, এটা বিশ্বাস করা যায় না।

মন্ত্রী বলেন, আমাকে সময় দেন। পৌনে তিন বছরে সব ঠিক করা সম্ভব নয়। তবে আগের চেয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটা প্রতিবেদনে এসেছে মহাসড়কে ১৬৭টি গর্ত আছে, কিন্তু এক হাজার ৬৭টি গর্ত আছে বললে ঠিক হতো। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব হয়। আস্তে আস্তে দেশের সড়ক সমস্যার সমাধান হবে।

 জেআই