বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত করে সত্য ও সুন্দরের পথে জীবন পরিচালনা করার জন্যই ইসলামী ছাত্রশিবিরের পথচলা শুরু হয়েছিল। ছাত্রজীবনে দ্বীনের পথে চলার প্রশিক্ষণ নিয়ে বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোই ছাত্রশিবিরের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মূলত দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হচ্ছে সব ফরজের বড় ফরজ। সকল নবী-রাসূলগণ এই মিশন নিয়েই দুনিয়াতে এসেছিলেন। তাই ছাত্রজীবন শেষে এই আন্দোলন থেকে অব্যাহতি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই ক্রান্তিকালে জাতির নেতৃত্বের সঙ্কট পূরণে ছাত্রশিবিরের বিদায়ী নেতৃত্বকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বুধবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র থেকে সদ্যবিদায়ী ছাত্রনেতৃবৃন্দকে নিয়ে আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় প্রীতি সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও মু. দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর নায়েবে আমির মু. আব্দুল জব্বার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সীমাহীন দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সঙ্কট, অব্যবস্থাপনা ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ সেক্টরে মহাবিপর্যয়। সর্বোপরি সরকার দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। দেশের নাগরিকদের আজ নূন্যতম অধিকারও নেই। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নেই, ভোটের অধিকারসহ জনগণের সকল অধিকারই একে একে কেড়ে নেয়া হয়েছে। যারা জনগণের সম্পদ লুট করে, ইজ্জত লুট করে তারা কখনো দেশের রক্ষাকর্তা হতে পারে না। তাই তিনি জনগণের অধিকার সুনিশ্চিত করতে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকলকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, জামায়াতবদ্ধ জীবনকে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সুরা আল ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা।’ রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামায়াত পরিত্যাগ করল সে ইসলামের শিকল তার গলা থেকে ছুঁড়ে ফেলল।’ তাই কারো পক্ষেই জামায়াতি জিন্দেগীর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি সকল প্রতিকূলতায় ঐক্যবদ্ধ থেকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাতে ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ইসলামী জীবনব্যবস্থায় বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূল সা: বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে পাঁচটি কথার হুকুম দিচ্ছি যা আল্লাহ আমাকে হুকুম করেছেন। সেগুলো হচ্ছে, সংগঠনবদ্ধ হওয়া, নেতার কথা শোনা, আনুগত্য করা, হিজরত করা ও আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’ ফলে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতৃবৃন্দকে বাইয়াত গ্রহণ করে বৃহত্তর আন্দোলনে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
এবিএস





