দুদকের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, দুদক একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের কমিশনার হয়ে এবং সাংবিধানিক পদের অধিকারী হয়ে এরকম বক্তব্য দিতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী। আমরা জেনেছি তিনি সত্তর দশকে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। তাই তিনি এখন রাজনৈতিক নেতার মতো বক্তব্য দিচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে সচেষ্ট হলেও বাংলাদেশে রাষ্ট্র নিজেই মানবাধিকার হরণ করছে। এখানে প্রতিনিয়িত মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। রাষ্ট্র স্বয়ং মানবাধিকার হরণ করছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গত ৬ বছর গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মানুষের ন্যুনতম অধিকার প্রতিনিয়ত হরণ করছে। আর এ কাজে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার শুধু হুমকির মুখে নয়, ধ্বংস হয়ে গেছে। সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবাধিকার সংরক্ষণের প্রশ্নে বিএনপি আপোষহীন অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, এই অনির্বাচিত অবৈধ সরকারের পুরো আমলটা জুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুণ্ঠন। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে তাদের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুণ্ঠনকে জায়েজ করতে এবং দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের জন্য যাতে আইন ও বিচারের মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য ‘স্পেশাল ইমারজেন্সি পাওয়ার এন্ড এনার্জি এ্যাক্ট-২০১০’ জারি করে।

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে তবে তা দেশের আপামর জনগণ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর বিএনপি।

দফায় দফায় বিদ্যুতের পাইকারী ও খুচরা মূল্য বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতে লোকসান সামাল দিতে পারছে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মহাজোট সরকার ও বর্তমান অবৈধ সরকার ৬ বছরের শাসনামলে ৬ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সেখানে চারদলীয় জোটের শাসনামলে বিদ্যুতের দাম ১বার বাড়নো হয়েছে। অন্যদিকে অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় দুই বার।

এসময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল খাতে যে সীমাহীন দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে তা বন্ধ করার জন্য দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান মির্জা ফখরুল।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন মালিকের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছে। আজ আবার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দিয়ে সে মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। সরকার মামলা হামলা করে জনগনের আন্দোলনকে দমাতে চাইছে।

তিনি বলেন, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে অতীতের কোন শাষকগোষ্ঠীই টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগও বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ,  অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, স্বনির্ভর সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ।

এমএইচ/ জেএ/এআর