দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে হামলা, জালাও, পোড়াও এবং পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার পাশবিক সন্ত্রাসী আচরণের আমরা আবারো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।
আজ ০৯ ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, যার ন্যূনতম বিবেক আছে সে এ হিংস্র, জঘন্য ও নির্মম কাজ করতে পারে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত দুস্কৃতিকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সরকার তা অগ্রাহ্য করে ঢালাওভাবে ২০ দলীয় জোট বিশেষ করে জামায়াত ও বিএনপিকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েই চলেছে।
অথচ এদেশের জনগণ স্বাক্ষী, বোমা হামলা, জালাও, পোড়াও এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে সরাসরি সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ক্যাডাররাই জড়িত।
ইতিমধ্যেই বোমা বানাতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপপুরে বোমা বিস্ফোরণে ৪ জন আহত হয়েছে, ফেনীতে দুই দফায় দুই জন নিহত, মাগুরায় বোমা মারতে গিয়ে ৩ জন ধৃত, সাতক্ষীরায় বাড়ী পোড়াতে গিয়ে একজন ধৃত, নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর গাড়ীতে বোমা মারতে গিয়ে ১ জন ধৃত, নোয়াখালীতে বিচারপতির বাড়িতে আগুন দিতে গিয়ে ধৃত, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে যুবলীগ কার্যালয় থেকে ১০টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার, চৌদ্দগ্রামে পেট্রোলবোমাসহ ২ জন আটক, মিরপুরে পেট্রোলবোমাসহ ১ জন আটক- এ সকল ঘটনার সাথে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা সরাসরি সম্পৃক্ত।
তাদের নাম, পরিচয় প্রথম আলোসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ও মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট থেকে হাতে-নাতে আওয়ামী দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র এবং বোমাসহ ধরা পড়া সত্ত্বেও তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার সাক্ষী মিডিয়ার সুবাদে দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ।
এ কথা দিবালোকের মত স্পষ্ট চলমান গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দলীয় ক্যাডারদের দ্বারা পেট্রোল বোমা হামলার নৃশংস ঘটনা সংঘটিত করছে।
আমরা আবারো দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এ নোংরা, পাশবিক কর্মকাণ্ডের সাথে আমাদের কোন কর্মী-সমর্থকের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। যদিও মাঝে মধ্যে লোকদের ধরে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বোমাসহ ধরা পড়ার নাটক সাজায়, তাদের এ নাটক দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না।
আমরা আবারো বলতে চাই, মিঠাপুকুর, চৌদ্দগ্রাম, গাইবান্ধা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সন্ত্রাসী, মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির বিধান না করলে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ চরম হুমকীতে পড়বে। এ ধ্বংসাত্মক ও হিংস্র প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সকল নীল-নকশা ও দোষারোপের নোংরা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিগত দিনগুলোতে দুস্কৃতিকারী সন্ত্রাসীদের হাতে যে সব নিরীহ, নিরপরাধ নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন আমরা আবারো তাদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং আহতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সংগঠনের সকল শাখা ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি।
দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসী অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সংগঠন, ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী এবং শান্তিকামী দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
জনগণের ভোট ও বাঁচার অধিকারের দাবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে এ সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। জনদাবিকে পাশ কাটিয়ে গায়ের জোরে প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের কোন অপপ্রয়াস অতীতে যেমন সফল হয়নি ভবিষ্যতেও সফল হবার প্রশ্নই উঠে না।
অতএব শক্তি প্রয়োগ করে অবৈধভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে বিরোধী দলীয় জোটের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরকে অপহরণ, গুম ও হত্যা করা এবং জনগণের ঘরবাড়ি, দোকান-পাট, হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মত মানবতা বিরোধী কাজ এখনই বন্ধ করতে হবে। সংঘটিত সকল অপকর্মের জন্য করুণ পরিণতি বরণ করতে সংশ্লিষ্টদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস জনগণের সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত জুলুম ও স্বৈরতন্ত্র বিরোধী চলমান আন্দোলন অচিরেই যৌক্তিক পরিণতির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতে যাচ্ছে। আমরা জনগণের ভোট ও বাঁচার অধিকার আদায়ের এ সংগ্রামে দেশবাসীকে সর্বাত্মক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
এসএইচ





