বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট  তারেক রহমান পক্ষে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতার্তদের মাঝে দুইদিন ধরে ১০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

গত দুইদিন ধরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা শীতার্তদের হাতে এসব কম্বল তুলে দেন।

শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈয়দপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়,  জয়পুরহাট ও গাইবান্ধায়, শনিবার সারাদিন কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।

কুড়িগ্রামে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, রংপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, লালমনিরহাটে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও সৈয়দপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বেবী নাজনীন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ সম্পাদক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন সবুজ,  সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন সরকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রফেসর ড. আব্দুল করিম,প্রফেসর ডাঃ আব্দুস সালাম, প্রফেসর ডাঃ পারভেজ হোসেন, সাংবাদিক আতিক রুমন, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল আলম,পরাণ চৌধুরী, শামীমা রহিম, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রেজানুল হক, আব্দুল গফুর প্রমুখ।

সকালে সৈয়দপুর মকবুল হোসেন সরকার কলেজ মাঠে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ গরীব ও দুস্থদের মাঝে এ কম্বল বিতরণের মধ্য দিয়ে ককর্মসূচী উদ্বোধন করেন। 

শীতবস্ত্র বিতরণপূর্ব  সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোন ফরমায়েশী রায় দেশের মানুষ মেনে নেবেনা।

তারা বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে শুধু হয়রানিই করা হচ্ছে না ফরমায়েশি সাজা দেয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের আগেই সরকারের মন্ত্রীরা বলে দিচ্ছেন খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে। এতেই বুঝা যায় একটা ফরমায়েশি  রায় হতে যাচ্ছে।

হাবিব উন নবী সোহেল বলেন, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দেশব্যাপী বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের গুম, খুন করে ভয় দেখানো হচ্ছে। কারণ বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। যত ধরনের কারচুপি, কারসাজি করা যায়, তারই চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন হউক। যেন জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে। এজন্য নির্বাচনের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। দেশে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার চেষ্টা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

তিনি বলেন,জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যেনতেন প্রকারের রায় হলে জনগণ মানবে না। তিনি বলেন, নজিরবিহীনভাবে তাড়াহুড়ো করে মামলাটি শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কেন এই তাড়াহুড়ো? কেন আইনের স্বাভাবিক গতি বন্ধ করে দিয়ে অতি দ্রুততার সঙ্গে এ রায় দেয়ার চেষ্টা? এর একটাই কারণ— বিএনপি ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।

ইঞ্জিনিয়ার আফজাল হোসেন সবুজ বলেন, এত সোজা নয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আপনারা যেনতেন প্রকারে একটা রায় দেয়ার ব্যবস্থা করবেন, দেশের মানুষ সেটা মেনে নেবে না। সঠিক বিচার করতে হবে, ন্যায়বিচার হতে হবে।

বেবি নাজনীন বলেন,এই মামলায় কোনো সত্যতা নেই। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এ মামলা।

কেবি