বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আজকের দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এদেশে এনে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে জিয়াউর রহমান ভুল করেছিলেন আর বেগম জিয়া তাকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে অপরাধ করেছেন বলে আমার কাছে মনে হয়।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ‘‘উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র’’শীর্ষক মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কথা শুনলে আওয়ামী লীগের নেতাদের গায়ে জ্বালা ও চুলকানী শুরু হয়ে যায়। তথ্য প্রমাণ দিয়ে তারেক রহমান কথা বলায় আওয়ামী সরকারের মাথা ব্যাথা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করা যাবে না। দেশের ১৬ কোটি মানুষ জিয়া পরিবারের সদস্য।
গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মনে হয় শেখ হাসিনার কাছে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন শিখতে হবে। যেখানে সবাই বলে গণতন্ত্র না থাকলে দেশে উন্নয়ন হয় না সেখানে শেখ হাসিনা বলছে অন্য কথা।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করে না। দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের মানুষের প্রকৃত ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় আনা।
তিনি নিজের আত্ম সমালোচনার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের আত্ম সমালোচনার আহবান জানিয়ে বলেন, আজকে নেত্রীর (খালেদা জিয়ার) সামনে স্লোগান দেয়া হয়। কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর আপনারা আমরা কোথায় ছিলাম যেদিন খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে বাসা থেকে বের হতে দেয় নি। সেদিন আমরা কী করেছিলাম?
লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের অভ্যুত্থান। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জণ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সেই গণতন্ত্র আজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কারণ ভোটারবিহীন নির্বাচনের গঠিত আজকের সংসদ চোরা বালির উপর দাড়িয়ে আছে।
সরকার দেশকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেই থেমে যায়নি এমন অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, সরকারের চেহারায় গোটা বিশ্ব উৎকণ্ঠিত। তারা দেখছে গণতন্ত্রের সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে সরকার বাকশালের দিকে যাচ্ছে। এখন তারা একদলীয় রাষ্ট্রের পথে হাঁটছে। তাই ডাকের অপেক্ষায় না থেকে সকলে চলমান আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানান।
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আক্তার হোসেন পিইঞ্জের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, ড্যাবের মহাসচিব ডা. জেড এ জাহিদ হোসেন, প্রকৌশলী মহসীন আলী,
প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, প্রকৌশলী সৈয়দ মুনসিব আলী, প্রকৌশলী ড. মনিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী ড. সাব্বির মোস্তফা খান, প্রকৌশলী ড. ইকরামুর হাসান রোকনী প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মেয়র অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ভাইসচেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জয়লান আবেদিন ফারুক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ তালুকদার, গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





