বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শবাদী, কল্যাণকামী ও গণমুখী রাজনৈতিক দল। আর্ত-মানবতার কল্যাণের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই আমরা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সাথে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগী করার জন্য সামান্য ঈদ সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছি। যা প্রয়োজনের চেয়ে নিতান্তই অপ্রতুল। তিনি সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সমাজের সক্ষম ও বিত্তবান মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের দক্ষিণখান থানা পশ্চিম আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদের পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও থানা আমির মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম শহীদ, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, ডা: আবু তাহের ও ডা: এম এ আলম প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ। তাই এই আনন্দঘন সময় সবার জন্যই সমান ও অবারিত হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে অর্থ-বিত্ত ও সামর্থের ভিন্নতার কারণেই ঈদের আনন্দ সবার জন্য সমান্তরাল হয় না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গণমুখী সংগঠন হিসেবে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য সীমিত পরিসরে রাখার জন্য অর্ধশতাব্দীর অধিককাল আগে থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে একটি ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত এসব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। রাষ্ট্রের প্রয়োজন ব্যক্তি বা সাংগঠনিক পর্যায়ে সমাধান করা সম্বব না হলেও আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগির জন্য এগিয়ে এসেছি। হয়তো আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ঈদ কিছুটা হলেও আনন্দঘন করবে। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজান শেষ দশকের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। কিন্তু সরকার সাধারণ মানুষের সিয়াম পালনকে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে পারেনি। গোটা রমজানেই রাজধানীতে ছিল সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট। রমজানের তারা নগরবাসীর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবস্থা করতে পারেনি। আর দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্দ্ধগতি নগরজীবনকে রীতিমত বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ঈদের দিন এগিয়ে আশায় পথে পথে চাঁদাবাজী শুরু হয়েছে। তারা ঘরে ফেরা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় গণপরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে ঘরমুখী মানুষেরা পথে পথে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমতাবস্থায় ঈদযাত্রাকে চাঁদাবাজী মুক্ত ও নির্বিঘ্ন করতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি ঈদের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতি গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমআর