লোকসানের অযুহাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত ১ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে অব্যাহত লোকসানের কারণে চলতি বছর ৬টি চিনিকলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ থাকবে এবং আগামী বছর আরো ৩টি চিনিকলে চিনি উৎপাদন বন্ধ করা হবে।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,চিনিকলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে থাকেন। এ গুলো বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা। দেশে এমনিতেই করোনা পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেকে চাকুরি ও ব্যবসা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে মিলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ করা হলে এ সকল শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা আরো বহু গুণে বেড়ে যাবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আখ মাড়াই শুরু হওয়ার মৌসুমে ঠিক এই সময় চিনিকলগুলো বন্ধ করা হলে কৃষকগণ যেমন আর্থিকভাবে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হবে, কৃষকরা আখ চাষ বন্ধ করে দিবে এবং দেশে চিনি উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তখন আমদানি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা।

চিনিকলগুলোর সাথে জড়িত শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিনিকলগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। প্রতিবেশি দেশ থেকে চিনি আমদানি করার সুযোগ করে দেয়ার জন্যই সরকার এই ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মাওলানা মতিউররহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে চিনিকলগুলোকে লোকসানের হাত থেকে উদ্ধার করে লাভজনক করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার এ উদ্যেগ অনেকাংশে সফল হয়েছিল। চিনিকলগুলোতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারীর কথা বিবেচনা করে তাদের ন্যায্য পাঁচদফা দাবি মেনে নিয়ে চিনিকলগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে খুলে দেয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এএস