শ্রমিক দলের বর্তমান কমিটিকে পকেট কমিটি আখ্যায়িত করে এবং গঠনতন্ত্র না মেনে কমিটি দেয়ায় এ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
২০১ সদস্যর এই পাল্টা কমিটিতে এম এ নাজিম উদ্দিনকে সভাপতি ও আবুল খায়ের খাজাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ৭ম জাতীয় সম্মেলন ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২০১৪ এর মাধ্যমে গঠিত নবনির্বাচিত কমিটির নাম সাংবাদিক সামনে ঘোষণা করা হয়।
আবুল খায়ের খাজা বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং জাফরুল হাসান সম্পূর্ন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধ সাবজেক্ট কমিটির মাধ্যমে একটি পকেট কমিটি করেছে। যা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ শ্রমিক দলের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নিকট গ্রহণযোগ্য হয় নি।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৬ জন কর্মকর্তাকে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং জাফরুল হাসান কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল পদ বন্টন করা হয়েছে অযোগ্য, অথর্ব্য ব্যাক্তিদের দিয়ে। শ্রমিক দলের অযোগ্য ও পকেট কমিটি গঠনের বিষয়ে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাজা বলেন, সারাদেশের শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রচলিত শ্রম আইন ও শ্রমিক দলের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক উপায়ে শ্রমিকদল গঠন করা হয়েছে। নব গঠিত কমিটি নেতাকর্মীদের প্রত্যাশানুযায়ী আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে কার্য্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও সভাপতি এম এ নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।
প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল বিএনপির এই অন্যতম অংগ সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার প্রায় ২ বছর পর ৭ম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় । অনেক হট্টগোল ও বির্তকের পর কাউন্সিলের ৭ দিন পর রাতে ২৮ এপ্রিল আনোয়ার হোসাইনকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নাসিমকে সাধারণ সম্পাদক করে শ্রমিক দলের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও শ্রমিক দলের কাউন্সিল সাবজেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্বাক্ষরে নতুন এ কমিটি ঘোষিত হয়।
শ্রমিক দলের সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলরদের মতামতের মাধ্যমে কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও ৭ দিন পর ওই কমিটি ঘোষণা করায় তখনই এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কমিটিতে যোগ্যদের স্থান না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
পাল্টা কমিটির বিষয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, নতুন পাল্টা কমিটি গঠন করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এসব করছে তারা শ্রমিক আইন ও শ্রমিক সংগঠন সম্পর্কে জানে না। তাদের এ পদক্ষেপ নিছক পাগলামি। এসবের আইনগত ভিত্তি নেই।
কমিটি নিয়ে আদালতের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১ জুলাই শ্রমিক দলের কমিটির বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করেছে একটি পক্ষ। মামলাটি বিচারাধীন আছে।
ঢাকা, এমএইচ, ২৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম





