খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমিরে শরীয়ত, হাফেজ্জী হুজুরের জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
আজ (২৩ ফেব্রুয়ারী) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এম. আলম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবাণী এই তথ্য জানানো হয়।
শোকবাণীতে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, “মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফের ইন্তেকালে জাতি একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও জাতীয় নেতাকে হারালো। তিনি একজন উদার গণতন্ত্রমনা, দেশপ্রেমিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার ইন্তেকালে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার অবদানের জন্য তিনি দেশবাসীর নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
শোকবাণীতে তিনি আরও বলেন, “মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রাহিমাহুল্লাহ) কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ক্ষমা ও রহম করুন এবং তাকে নিরাপত্তা দান করুন। তাকে সম্মানিত মেহমান হিসেবে কবুল করুন ও তার কবরকে প্রশস্ত করুন। তার গুণাহখাতাগুলোকে নেকিতে পরিণত করুন। তার জীবনের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।”
তিনি শোকবাণীতে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এ শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”
মরহুম মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ বার্ধক্যজনিত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারনে দির্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী ৯ ছেলে, ৮ মেয়ে’সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের বড় সাহেবজাদা। তিনি দির্ঘদিন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির ছিলেন।
শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তরে তিনি ইসলামের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে এদেশের ইসলাম প্রিয় জনতার হৃদয়ে স্থান করে নেন। কর্মজীবনে মরহুম মাওলানা আশরাফ রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর নুরিয়া মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন।
মরহুম মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফের জানাজার নামাজ আজ (শুক্রবার) বাদ আসর কামরাংগিরচর নূরীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্য এক শোকবাণীতে ঢাকা মহানগরীর মিরপুরস্থ আরজাবাদের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এবং বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মোস্তফা আজাদের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
শোকবাণীতে তিনি বলেন, “মাওলানা মোস্তফা আজাদের ইন্তেকালে জাতি একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনকে হারালো। তিনি ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দ্বীনের বিরাট খেদমত করে গিয়েছেন।”
শোকবাণীতে তিনি আরও বলেন, “মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রাহিমাহুল্লাহ) কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ক্ষমা ও রহম করুন এবং তাকে নিরাপত্তা দান করুন। তাকে সম্মানিত মেহমান হিসেবে কবুল করুন ও তার কবরকে প্রশস্ত করুন। তার গুণাহখাতাগুলোকে নেকিতে পরিণত করুন। তার জীবনের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।”
তিনি শোকবাণীতে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এ শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”
মরহুম মাওলানা মোস্তফা আজাদ আজ (শুক্রবার) সকালে বার্ধক্য জনিত কারনে ইন্তিকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুম মাওলানা আজাদ কর্মজীবনে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার মোহতামিম ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি ছিলেন। এবং কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক সংগঠন বেফাকের সহ-সভাপতি ছিলেন। মরহুম মাওলানা মোস্তফা আজাদের জানাজার নামাজ আজ (শুক্রবার) বাদ মাগরিব আরজাবাদ মাদরাসা সংলগ্ন ৯ নং ওয়ার্ড গোলারটেক ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা মোস্তফা আজাদের নামাজের জানাজায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেছেন।
এমবি





