ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের কোনো বিশেষ দল বা গোত্রের সঙ্গে নয় সম্পর্ক করতে চায় জনগণের সঙ্গে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সফররত পররাস্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সুষমা স্বরাজের বৈঠকের পর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চায় কি না সুষমা স্বরাজের কাছে সে প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত এবং তথাকথিত সংষদ রয়েছে। সেখানে জনগণের কোনো ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে না। গণতন্ত্র ব্যতিরেকে দক্ষিন এশিয়ার উন্নয়ণ সম্ভব নয় সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের সার্থে গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

শমসের মবিন বৈঠকের বরাত দিয়ে আরও বলেন, দুদেশের দিপাক্ষিক ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বেগম জিয়া বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় এবং বিভিন্ন অমিমাংসীত ইস্যুগুলোর সমমর্যাদার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি চায়। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন ভারতের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান।

খালেদা জিয়া বিশেষ করে উল্লেখ করেন যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত সরকার সার্কের মাধ্যমে দক্ষিন এশীয় অঞ্চলের সম্পর্ক জোরদার করতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের জনগনও তার এই উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করবে। যাতে এই অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবাই অংশীদার হতে পারে। নরেন্দ্র মোদির ভূটান সফর এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর এই উদ্যোগেরই অংশ বলে মনে করে বিএনপি ।

গণমাধ্যমে বরাত দিয়ে শমসের মবিন জানান, বাংলাদেশের সরকার এই বৈঠকের ব্যপারে আপত্তি জানিয়েছিলো। এসব অতিক্রম করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার অর্থ ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে  প্রায় পৌঁনে ১ ঘন্টা বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সুষমা স্বরাজের আমন্ত্রনে হোটেল সোনারগাঁয়ের বেঙ্গল স্যুটের ৮২৪ নং কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, এম মোর্শেদ খান, উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান এবং সাবিহ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন, পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং, পররাষ্ট্র বিষয়ক মূখপাত্র আকবর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত মাসে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর নতুন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পান সুষমা। পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম সফরে বুধবার ঢাকায় আসেন বিজেপির এই নেত্রী। তিনদিনের সফরে শেষ দিনে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে এই দুই জন হোটেল সোনারগাওয়ে হোটেল স্যুটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করতে স্যুটে প্রবেশ করেন।

সকালে সুষমা স্বরাজ পুরান ঢাকায় জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পরিদর্শন করেন। এরপর ৯টা ৮ মিনিটে তিনি আবার হোটেল স্যুটে ফিরে আসেন।
সুষমা স্বরাজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
ঢাকা, এমএইচ, ২৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)