ঢাকার ৫৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, শিবির নেতা ওয়ালীউল্লাহ ও আল মোকাদ্দাস, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহম্মেদ নিখোঁজ একাই সুত্রে গাঁথা। তবে এর মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্নার খোঁজ মিললেও বাঁকিদের এখনো খোঁজ পর্যন্ত মেলেনি।

২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল মধ্যরাতে বনানীর ২ নম্বর সড়কের সাউথপয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজের সামন থেকে অপহৃত হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। তারপর তার স্ত্রী তাহমিনা রুসদি প্রধান মন্ত্রীর কাছে তার স্বামীর সন্ধান চেয়ে দেখা করেন। তারপরেও এখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলীর কোন সন্ধান মেলেনি।

২০১৩ সালে ২০শে জুন রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় র‌্যাব আটক করে ৫৬নং ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমকে। তারপর ঘটনাস্থলেই র‌্যাব তাকে পুলিশের কাছে ছেড়ে দেয় বলে জানায় চৌধুরী আলমের স্ত্রী হাসিনা চৌধুরী। তারপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একইভাবে রাজনৈতিক কাজে ঢাকায় এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির নেতা ঢাকার কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নিখোঁজ হওয়া ওয়ালীউল্লাহ ও আল মোকাদ্দাসকেও এখন পযর্ন্ত খুঁজে পায়নি তাদের পরিবার। শিবির ও তাদের পরিবরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তাদেরকে ডিবি পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে বিএনপি পন্থী আইনজীবি সোহেল রানা তার বন্ধুসহ রাজধানীর মহাখালী থেকে নিখোঁজ হয়। সোহেলের স্ত্রী তার বন্ধুর বরাত দিয়ে বলেন,‘সোহেল কে গ্রেফতার করার সময় ছাই কালারের একটা মাইক্রবাসে ৪/৫ জন লোক তাদের দুইজনের চোখ বেধে মাইক্রবাসে তুলে তাদের মারধর করার সময় বলে বড় নেতা হয়েছিস না।’ সেই রাতেই তার বন্ধুকে ছেড়ে দিলেও সোহেলকে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

ঠিক একইভাবে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে গুলশানে এক আত্মীয়র বাসা থেকে ডিবি পুলিশ মান্নাকে আটক করে বলে দাবি করেন তার পরিবার। কিন্তু পুলিশ তাৎক্ষনিক বিষয়টি অস্বীকার করেন। আটকের ২১ঘন্টা পরে গুলশান থানায় মান্নাকে আটক দেখায় পুলিশ।

১০ মার্চ রাত ১০টা ১০ মিনিটে তার স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা হওয়ার পর উত্তরার একটি বাসা থেকে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাউদ্দিনকে ডিবি পুলিশ তার বাসা থেকে আটক করে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহম্মেদ। তারপর ১২ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করতে গেলে জিডি নেয়নি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

১৩ মার্চে সালাউদ্দিনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্বশরীরে হাজির করার নির্দেশ চেয়ে আদালতে রিট করে সালাউদ্দিনের স্ত্রী। আদালত সালাউদ্দিনকে কেন আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে হাজির করা হবেনা জবাব চেয়ে একটি রিট দায়ের করেন।

তারপর থানা, পুলিশের স্পেশাল শাখা,সিআইডি,র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করেনি বলে জবাব দেয়।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সালাউদ্দন আগেও আত্মগোপনে ছিলো এখনো আত্মগোপনেই আছে।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সালাউদ্দিনের খোঁজ চেয়ে গণমাধ্যমে প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠান।

সালাউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহম্মেদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার দুই সন্তান কিছুক্ষণ পরপর বাহিরে থেকে ফোন দিয়ে তাদের বাবার খবর জানতে চায় কিন্তু আমি তাদের কোন উত্তর দিতে পারিনা। তাই আমি প্রশাসনকে বলবো ওদের বাবাকে ফিরিয়ে দিন।

এআই/এমকে