চলমান অবরোধ-হরতালে সহিংসতায় মানুষ হত্যার দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম-বোয়াফ।
‘আর নয় প্রতিবাদ; এবার হবে প্রতিরোধ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এমন দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
বক্তরা বলেন, একের পর এক মানুষ হত্যা, জীবন্ত মানুষকে পুড়ে কাবাব বানানো, অগ্নিদগ্ধ করে মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া, আগুনে জ্বলসে মানুষের সোনালী জীবকে পঙ্গু করা, উদীয়মান প্রজন্মের শিক্ষার আলোর পথকে বাধাগ্রস্ত করা, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করা এবং সর্বপরি দেশের জন-জীবনকে জিম্মি করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি বর্বর ও নোংরা জাতি হিসেবে পরিচিতির অপচেষ্ঠা তা আর মেনে নেয়া যায় না।
বক্তরা আরো বলেন, প্রজন্মের পক্ষ থেকে মনে করে, অব্যাহত এইসব সহিংসতার মদদদাতা বেগম খালেদা জিয়া। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে সাত জনকে নিমর্মভাবে হত্যার মদদদাতা বেগম খালেদা জিয়া। উদীয়মান প্রজন্মের এসএসসি পরিক্ষায় বাধা প্রয়োগকারী বেগম খালেদা জিয়া।
তারা বলেন, এই ধরনের বর্বরতা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির ইস্যু নয়; এটা অন্যকিছু। অব্যাহত হত্যাকাণ্ড, জ্বালাও-পুড়াও এবং দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে তারা ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের মুক্ত করতে চায়।
মানববন্ধন থেকে দাবি জানানো হয়, দেশের প্রচলিত আইনে এইসব বর্বরতা, হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসলীলার অব্যাহত মদদদাতা বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সেই সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু দুর্বলতা পরিলক্ষিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সরকার অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের দুর্বলার পদচিহ্ন রেখে গেছে। সরকার অব্যাহত পরিস্থিত মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে দেশের সাধারণ জনগণ আইনভঙ্গ করতে বাধ্য হবে। নিজেদের হাতে আইন তুলে নিতেও বাধ্য হবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বোয়াফ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ব্লগার কবীর চৌধুরী তন্ময়। বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, বোয়াফ সহ-সভাপতি রাশিদা হক কনিকা, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন করিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম এইচ চৌধুরী, বোয়াফ সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিছবাহ, মোস্তাফিজুর রহমান রাজীব, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা তাহমিনা তাহেরিন মুমু প্রমুখ।
জেআই





