ইউপি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও রাজাকারকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে যে সব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা ‘সত্য নয়’ বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। সমাজবিরোধী কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে— এটা কেউ দেখাতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, রাজাকার, আলশামস, জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপির কেউ মনোনয়ন যেন না পায়, এ জন্য কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত-রাজাকার কিংবা বিএনপির সন্ত্রাসীরা মাথা গোজার ঠাঁই হিসেবে আমাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এমন সংবাদের মাধ্যমে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকেই নয়, কুঠারাঘাত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মূলেও।’

তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই কেবল মজবুত হবে না, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল অনেক শক্তিশালী, সেটি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মনোনয়ন ব্যবস্থাকে তৃর্ণমূল পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

প্রথম দফায় ৭৩৯ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইউনিয়নের মধ্যে ৭০২ ইউপিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। বাকি ৩৭ জনের মনোনয়ন শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘গত বুধবার রাতে ৫৫৮টি ও গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ১৪৪টি ইউপিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র শুক্রবার সকাল থেকে বিতরণ শুরু করেছে দলটি। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধে উপস্থিত ছিলেন— সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, কার্যনিবার্হী সদস্য এনামুল হক শামীম, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী ও আমিনুল ইসলাম আমিন।

এমএইচ