ঢাকা আইনজীবি সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনার সময় ছাত্রলীগের অর্তকিত হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত আমীর মন্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া।
আজ (শুক্রবার) দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইফ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এইসব কথা বলেন। তিনি আইনজীবীদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক অভিহিত করে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।
মন্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, “আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করার যে অপকৌশল গ্রহণ করেছে। ছাত্রলীগকে দিয়ে এ হামলা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। এই ধরনের লজ্জ্বাকর ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আইনজীবীদের উপর হামলা করে আইনের শাসনের ওপর পদাঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনা আমাদেরকে পৃথিবীর সামনে জাতি হিসাবে কলঙ্কিত করেছে।
ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য বিচার বিভাগকে নগ্নভাবে ব্যবহারের যে নিকৃষ্ট ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তাতে দেশ এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ধাবীত হচ্ছে। সরকার এ ধরনের সংকট সৃষ্টি করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। কিন্তু সরকারের এ পরিকল্পনা দেশের জনগণ কখনো বাস্তাবায়ন হতে দিবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ এখন সার্বিকভাবে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটার বিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের প্রতি জনগণের আর কোন আস্থা নেই। তার উপর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আইনজীবি সমিতির মত সাধারণ পেশাজীবি সমিতির নির্বাচনকে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের এমন ফ্যাসীবাদী আচরণ দেশের জনগন ও চিন্তাশীল বিবেককে ক্ষুদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এই সরকার গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে না এবং এই সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন’সহ কোন নির্বাচনই অবাধ, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুস্থ ও নিরপেক্ষ করতে হলে অবিলম্বে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে, গণগ্রেফতার করে, সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে না দিয়ে জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করছে। গণতন্ত্র ধ্বংস ও একদলীয় শাসন কায়েমের মাধ্যমে এদেশকে অকার্যকার রাষ্ট্র বানানোর অশুভ প্রক্রিয়া থেকে ফিরে এসে ক্ষমতাসীনদেরকে দেশে শান্তি-শৃংখলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় জনগন এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশকে নব্য বাকশাল মুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।”
উল্লেখ্য, “বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রাত ১১ টায় ঢাকা আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে ভোট গণনার সময় ছাত্রলীগের জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আইনজীবিদের উপর অর্তকিত হামলা ও মুহুর্মুহু বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই’র চেষ্টা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আইনজীবি সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মান্নান’সহ ৫ জন আহত হয়। মুলত নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবিদের সাদা প্যানেল পরাজয় আঁচ করতে পেরে ছাত্রলীগকে দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। এ সময় আইনজীবী সমিতি ভবনের চারতলায় অনেক আইনজীবী আটকা পরেন।”
এমবি





