‘১৯৭১ ভেতরে বাহিরে’ বইয়ের লেখক এ কে খন্দকারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (৩ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বই প্রকাশের ৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রীকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে, সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিস্কার। বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

‘১৯৭১ ভেতরে বাহিরে’ বইয়ে অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য সম্প্রতি জাতির কাছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চান এই বইয়ের লেখক মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার।

রিজভী বলেন, এই ক্ষমা চাওয়ার পেছনে সরকারের চাপ ছিল। সত্য ও ইতিহাস এখন বাকশালী হুকুমের কাছে বন্দি।

আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক বা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

কখনো আদালতকে ব্যবহার করে, কখনো গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে মুক্তমনের বিবেকবান কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগারদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার সত্য ইতিহাস যখন বিভিন্ন লেখকের লেখায় ফুটে ওঠে তখন তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য আওয়ামী সরকার লেখকদের নানাভাবে বাধ্য করে ঐ অংশটুকু মুছে ফেলতে।

তিনি বলেন, জবরদস্তিমূলকভাবে ইতিহাস রচনা করলে তা আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হয়। সত্য উচ্চারণের ইতিহাস জানতে জনগণকে সংবৃত করা অসম্ভব। দুর্নীতি, গুম, গুপ্তহত্যা, চাপ ও হুমকির বাতাবরণের মধ্যেও ইতিহাসে সত্য প্রকাশ অবধারিত।

কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে, গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম রাখার জন্য।

এএস