খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, কওমি মাদ্রাসায় কোন জঙ্গি নেই, কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয় তারা জঙ্গি। তবে আমি মনে করি বাংলাদেশর কওমি মাদ্রাসায় কোন জঙ্গি নেই। তবে যারা ধরা পড়েছে তারা অতীতে শিবির বা জামায়াত করেছে।


শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির উদ্যোগে গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আলেম ওলামাদের ভূমিকা শীর্ষক’ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হরতাল-অবরোধে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক বিভাগে ট্রাইবুনাল হচ্ছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, হরতাল-অবরোধের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, আজকে সময় এসেছে তাদের বিচার করার। আমরা ধর্ম ভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নই । আমরা ঘৃণা করি মানুষ পোড়ানোকে, গণতন্ত্রে এই ধরণের বিভৎসতা ও নৃশংসতার কোন স্থান নেই।
কামরুল বলেন, যারা বলে সাঈদীকে চাঁদে দেখা যায়, তাদের তো মাফ করা যায় না। এদেরও বিচার করা হবে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ বলেন, এরা জামাতে মজলিশে সূরার সদস্য। এরাসহ বাংলাদেশে যতগুলো জঙ্গি সংগঠন আছে এদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি গণতন্ত্রের আলখেল্লা পরে দেশে জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের এই আলখেল্লা ছুঁড়ে ফেলতে হবে।

তিনি বলেন, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ হত্যায় যদি বলিউড স্টার সালমান খানের সাজা হয়, তাহলে বাংলামটরে মানুষ চাপা দেয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার অতি দ্রুত শাস্তির হওয়া উচিত।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলামটরে যে পরিবারের সদস্যকে খালেদা জিয়া গাড়ি চাপা দিয়েছেন, আমি সেই পরিবারকে বলব দ্রুত তার বিরুদ্ধে মামলা করুন।‘কারণ আইন সকলের জন্য সমান। একই অভিযোগে যদি সালমান খানের বিচার হয় তাহলে তার বিচার হবে না কেন।’
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মামলার চার্জসিট দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সাবেক এই মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আল্লাহর একটা বিচার আছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি একদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি, অন্য দিকে তারেক রহমান ফেরারি আসামি।

ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখতে পেলাম বেগম খালেদা জিয়া ভারতের প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘ ৪১ বছর প্রতীক্ষার পর যার জন্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলো, তাকে অভিনন্দন না জানিয়ে খালেদা জিয়া হীন-মন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, এখানে জঙ্গিবাদ বা মানুষ পোড়ানোর কোন স্থান নেই। যারা এগুলো করেছে, সময় এসেছে এদের বিচার করার।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে, যারা বলেন ইসলামে নারী নেত্রত্ব চলে না, অথচ তারাই নারীদের পাশে বসে থাকে।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক এম করিম, ইউনাইডেট ইসলামী পার্টির নেতৃবৃন্দ।

এমএ/ এআর