নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন ঢাকার অঙ্গীকার করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস। ইশতেহারে ঢাকা শহরের হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো, নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক অভিযোগ কেন্দ্র, যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশসহ বিভিন্ন অঙ্গীকার করেন তিনি।

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। মামলার কারণে অনুপস্থিত থাকায় আব্বাসের ওই ইশতেহার পড়ে শোনান তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

মির্জা আব্বাসের ইশতেহারে থাকা উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার

নাগরিক সেবা: মির্জা আব্বাস ঢাকার নাগরিকদের বাসা বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স ১২ থেকে ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এর নিন্দা জানান। তিনি ইশতেহারে বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করবেন। ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে পয়োনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে তাঁর আওতাধীন ওয়ার্ডগুলোতে ব্যায়ামাগার করবেন, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবেন।

নাগরিক বিনোদন: ইশতেহারে বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত, এর তিরে হাঁটার পথ নির্মাণসহ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার অঙ্গিকার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থাপন করা হলে সেখানকার ঐতিহ্য ধরে রেখে নগরবাসীর জন্য আন্তর্জাতিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার অঙ্গিকার করেন।

যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন, নারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক বাস, এলাকা/রাস্তা নির্দেশক ডিজিটাল বোর্ড, হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা: ইশতেহারে পথচারী ও বাসযাত্রীদের জন্য নারী-পুরুষ সবার জন্য ব্যবহার উপযোগী আধুনিক টয়লেট স্থাপন, প্রতিটি পার্কে অত্যাধুনিক ‘প্রাইমারি হেলথ চেক-আপ সেন্টার’ স্থাপন, মশক নিধন ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিষেধক কর্মসূচি গ্রহণ, রাসায়নিক কারখানাগুলো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।

 

শিক্ষা খাত: বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে নৈশকালীন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক শতভাগ সাক্ষরতা কার্যক্রম চালু, বিনা মূল্যে কম্পিউটার ও ইংরেজি শিক্ষা চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও উচ্চ-শিক্ষা ঋণ চালু, স্বল্পশিক্ষিত ও দরিদ্র যুবকদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যানবাহন মেরামত, হার্ডওয়্যার, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি, টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল সার্ভিসিং এর মতো বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে।

পরিবেশ উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে রাত ১২টা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে নগরের সব বর্জ্য অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা, উন্নত দেশের মতো ‘ডোর টু ডোর ওয়েস্ট কালেকশন’ পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ, ডাস্টবিনগুলো যথাস্থানে স্থাপন, বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থার অঙ্গিকার করা হয় ইশতেহারে।

প্রযুক্তির ঢাকা: অনলাইনে নগরবাসীর সব সনদপত্রের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, সিনিয়র সিটিজেন হেল্পলাইন চালু, জনবহুল এলাকাতে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা, নগরের সব দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে প্রকাশের মতো অঙ্গিকার রয়েছে মির্জা আব্বাসের ইশতেহারে।

সমাজসেবা: গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল ও ডরমিটরি তৈরি, নাগরিকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস, প্রবীণ হিতৈষী কেন্দ্র, ঢাকার কোর্টকাচারিতে বিচারপ্রার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক অপেক্ষাগার নির্মাণের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে।

জননিরাপত্তা: পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সড়ককে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, ওয়ার্ড/লেন/গলিভিত্তিক নৈশপ্রহরী ও কমিউনিটি পুলিশ কার্যক্রম নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নগর-পরিকল্পনা ও প্রশাসন: পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে দেশ-বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ গ্রহণ, ওয়ার্ডভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন এবং নগরের সমস্যা সমাধানে স্বল্পমেয়াদি ১৮০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এ ইশতেহারে।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আফরোজা আব্বাস। একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রচারণা চালাতে গেলেই আমাদের হামলা করা হচ্ছে। প্রচারণার সময় যে বাড়িতে নামাজ পড়তে যাচ্ছি সেই বাড়ি পুলিশ ঘিরে রাখে। আমার বাড়ি পাবনায়। আমি ঢাকার বউ হয়ে এসেছি। এখন আমার সম্মান ও নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনাদের।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা বলেন, ‘সরকার যদি ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচন চায় তাহলে সেনা মোতায়েন করবে না। আর যদি প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন চায়, তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে।’

এই ইশতেহার বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব?-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাব দেন আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক এমাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য কেউ অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে না। জনগণের জন্য কাজ করলে জনগণই টাকার বস্তা নিয়ে আসবে।’

ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এমএইচ, জেএ