১৯৯১ সালে যেভাবে সমঝোতার মাধ্যমে বিচারপতি সাহাবউদ্দিনকে প্রধান করে সব দলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল,একইভাবে বর্তমান প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করেও নির্বাচন করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে "নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে নাগরিক প্রত্যাশা" শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

হুমায়ন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকুমুল বড়ুয়াসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্ছালনা করেন, কবি কাজি নিজাম উদ্দিন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, নির্বাচনের বিষয় এলেই আওয়ামী লীগ সবসময় সংবিধানের কথা বলে। তারা বলেন সংবিধানের আলোকে শেখ হাসিনার অধিনেই নির্বাচন হবে।

দুদু বলেন, আমাদেরও সংবিধানের আলোকে নির্বাচনে যেতে আপত্তি নেই, তবে প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগ আসলে সংবিধান মানে কিনা? দুদু নিজেই নিজের প্রশ্নের জবাব দিয়ে বলেন, ‘না’ তারা সংবিধান মানেন না। আর যদি তারাই সংবিধান না মানেন তাহলে আমরা সংবিধান মেনে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবো কেনো?

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি ছয়টি বিষয় তুলে ধরে বলেন, কয়েকদিন আগে ইলিয়াছ পত্নি লন্ডনে যাবেন তাকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো, তিনি কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে আবার গেলেন, তাকে আবারও আটকে দেওয়া হলো। এরপর তিনি আবার অনুমতি নিয়ে গিয়েছেন। এভাবে আমিসহ আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকের পার্সপোট জব্দ করে রেখেছিল সরকার । আমাদের রিট করে পার্সপোট নিতে হয়েছে। অথচ আপনারা সব দেশে স্বাভাবিক ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, কিছু দিন আগে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সাহায্য নিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে আমাদের মহাসচিব রওয়ানা দিয়েছিলেন, আপনারা সেখানে আক্রমন করেছেন। একদিকে আপনারা সরকারি খরচে হেলিকপ্টার নিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে আমরা স্বাভাবিকভাবে খোঁজখবর নিতে যাব সেটাও দিচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, একই সময়ের মামলা আপনাদেরগুলো প্রত্যাহার করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ আমাদের নেতৃবৃন্দদের নামে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আপনারা সমাবেশ করতে পারবেন আমাদেরকে দিবেননা।পুলিশ আপনাদের পাহারা দিবে,আমাদের ঠ্যাঙ্গাবে।এগুলোকি আপনাদের সংবিধান মানার আলামত? তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,যদি সৎ সাহস থাকে পুলিশকে একটু বলেননা, আপনাদের সাথে যে আচরণ করে আমাদের সাথে একই আচরণ করতে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশ আসেনি, সংবিধান দিয়ে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশে কখনও সুষ্ঠু স্বাভাবিক গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হয়নি। সুতরাং সংবিধানের বাইরে গিয়ে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। কারণ, আপনি যদি সংবিধান মানতেন তাহলে আমরাও মানতাম । আপনি যেহেতু মানেন না, আমরা কেন মানবো? আর মানেন না বলে এ সংবিধানের আওতায় সুষ্ঠু স্বাভাবিক কোন নির্বাচন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করিনা। বাংলাদেশের কোন মানুষ বিশ্বাস করেনা।

দুদু বলেন, ১৯৯১ সালে যে নির্বাচনটা হয়েছিল, আপনিও মেনে নিয়েছিলেন, আমরাও মেনে নিয়েছিলাম। আসেন না প্রধান বিচারপতিকে আমরা ইনভাইট করি। তাকে দিয়ে একটা নির্বাচন করি। তিনি তো আপনাদেরই মনোনীত। এ জন্যই বিএনপি আপনাদেরকে আলোচনার জন্য বলে। তিনি বলেন, আলোচনাটা শুরু করেন, দেখবেনে অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে। আর এর বাইরে যদি কিছু করেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিবে।