বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় এ্যামিরাটস এয়ারলাইন্সের ৫৮৫ নং বিমান যোগে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন তারেক রহমান ও যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

লন্ডন বিএনপির একটি সূত্রে জানা যায়, সেখানে অবস্থানকালে তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায়ই থাকবেন এবং চোখের চিকিৎসা করবেন।

একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও লন্ডনে যেতে পারেন।

গত মাস থেকেই খালেদা জিয়ার এই লন্ডন সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর পারিবারিক হলেও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ড. ওসমান ফারুক ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

এছাড়াও সেখানে যোগ দিতে পারেন এই মুহুর্তে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি প্রধানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, দলের চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্ধারণ, আগামী জাতীয় কাউন্সিল ও ভবিষ্যত আন্দোলন সংগ্রামের কৌশল নির্ধারণসহ নানা বিষয়ে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতেই লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া।

ওই সূত্রটি আরও জানায়, রোজার পরপরেই ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা ঘোষণা করা হয়নি।

এর পেছনে কারণ ছিল, কমিটি করার আগে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করা। ইতোমধ্যে তিনি এসব বিষয় নিয়ে হোম ওয়ার্কও করে রেখেছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন কমিটির একটি থসড়া তালিকাও প্রস্তুত করেছেন।

এসব তথ্য-উপাত্ত সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন তিনি। লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব কমিটি চূড়ান্ত করবেন।

এছাড়াও দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা দ্রুত চলায় তাকে সাজা দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে তারেক রহমানও হুলিয়া নিয়ে দেশের বাইরে। তাদের নির্বাচনে অযোগ্য করে সরকার একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলেও দিতে পারে।

এই ধরনের পরিস্থিতি হলে বিএনপির কৌশল কি হবে তা নিয়ে পরিকল্পিত আলোচনা হবে মা-ছেলের। এমন হলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে দলের দায়িত্বে আনা যায় কী-না সে সম্পর্কে তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত জানবেন বিএনপি নেত্রী।

এমনকি বর্তমান অবস্থায় সরকার যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেয় তাহলে বিএনপি ও শরীকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়েও প্রাথমিক আলাপ-আলোচনাও সেরে রাখবেন তিনি।

কেননা ২০ দলীয় জোটের শরীকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি প্রধানকে চাপ দিয়ে আসছে।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকালে ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদস্থ কয়েক কর্মকর্তা ও মূলধারার কয়েকজন রাজনীতিবিদের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া ব্রিটিশ এমপি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলীর সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাত হতে পারে। লন্ডনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া পেশাজীবী ও প্রবাসীদের উদ্যোগে খালেদা জিয়াকে নাগরিক সংবর্ধনাও দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আ স ম হান্নান শাহ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, লন্ডন সফরটি ম্যাডামের একান্তই ব্যক্তিগত সফর।

অনেক দিন ধরেই তিনি এই সফরের কথা বলে আসছিলেন। লন্ডনে তার ছেলে তারেক রহমানের পরিবার আছে। সেখানে তিনি চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যেরও পরীক্ষা করাবেন।

সেখানে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে কি না সেটি আমি বলতে পারব না। তবে দুজনেই যেহেতু দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, তাই রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

এসব বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু টাইমনিউজবিডিকে বলেন, চেয়ারপারসন মূলত যাচ্ছেন চোখের চিকিৎসা করাতে। পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে।

তবে লন্ডনে অবস্থানকালে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তারা আলোচনা করতেই পারেন। একইসঙ্গে দলের পুনর্গঠন, আগামী জাতীয় কাউন্সিলসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর লন্ডনে খালেদার এটি দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পথে ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়া ২০১৪ সালে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেলে তারেকও লন্ডন থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর প্রায় ১ বছরের বেশি সময় আর মা-ছেলের দেখা হয়নি।

এমএইচ/এসএইচ