সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে দেশে জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাকে ছোট করে দেখলে হবে না। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্ব আজ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের একটি জাতীয় ঐক্য দরকার। এজন্য সরকারকে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। নইলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্য নামে এই সমাবেশের আমন্ত্রক ছিলেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এতে কৃষক শ্রমিক জনতালীগসহ ৬ টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

সমাবেশে ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, গোটা দেশের ১৮ কোটি মানুষ আজকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ শুধু রোহিঙ্গা নয়, সারা পৃথিবীর মধ্যে যেখানে মানবতা নির্যাতিত হবে সেখানে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পাশে থাকবে। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। মানুষের দু:খ কষ্ট আমরা বুঝতে পারি। জাতিসংঘসহ বিশ্বের কিছু প্রভাবশালী দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ধন্যবাদ জানিয়েছে।

তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরাও সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু, এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, কূটনীতিক ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা ব্যর্থতা রয়েছে। বড় তিনটি দেশ রাশিয়া, ভারত এবং চীন মিয়ানমারের পক্ষে সায় দিচ্ছে। তারা বলছে যে, এটা মিয়ামানের অভ্যন্তরীন সমস্যা। একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, ভারত, রাশিয়া, চীন এবং ইসরাইল মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবারাহ করছে।

অথচ ইসরাইল বাদে বাকি তিন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় ব্যবসা আছে। তারা কেন আমাদের জন্য কথা বলছে না, এটা আমাদের সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। আমাদের উচিত তাদেরকে বিষয়টি দ্রুত বোঝানো যে, এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন বিষয় নয়। এটি একটি জাতিগত সমস্যা এবং এটা আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত। এর একটা দ্রুত সুরাহা হওয়া দরকার।

এমবি