কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে একমত হয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। আগামী দিনে যেকোনো কর্মসূচি তারা যুগপৎভাবে পালন করবে।

রোববার (০৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় বিএনপি সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়ার লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ওইসব সিদ্ধান্ত হয়। 

এর আগে খন্দকার মোশাররফের বাসায় একে একে শীর্ষ নেতারা যেতে থাকেন। খন্দকার মোশাররফ প্রত্যেককে স্বাগত জানান। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে জড়িয়ে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

বৈঠক শেষে এইসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে যুক্তফ্রন্ট নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, “আমরা ঐক্য করছি বিএনপি সঙ্গে। বিএনপির সঙ্গে কোনো জোট থাকল না থাকল সেটা কোনো বিষয় নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সঙ্গে ঐক্য করছি।”

রব বলেন, “আগামী দিনে যেকোনো কর্মসূচি একসঙ্গে পালন করা হবে। যেটা হোক ঢাকা কিংবা তার বাইরে। সিদ্ধান্তও হবে যুগপৎ। নির্বাচনকে ঘিরে আমরা ৫ দাবিতে একমত হয়েছি। দাবিগুলো পুরোনো। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং ইভিএম বাতিল।”

আ স ম রব বলেন, “একই মামলায় অন্যদের জামিনের পরও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন জেলে- আমরা জানি না। আমরা খালেদা জিয়াসহ কোটা- নিরাপদ সড়কের ও গায়েবি মামলায় আটক সবার মুক্তি চাই। জনগণ আজ শঙ্কিত। সবাই ঐক্য চায়। এটা সবার চাওয়া। আমরা আগামীতে বসে আন্দোলন কর্মসূচি ঠিক করব।”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনো কথা বলেননি। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “আমরা ওই দাবিগুলোতে সবাই আজ একমত হয়েছি। এখন থেকে সব আন্দোলন একসাথে হবে।”

রাত ৯টায় শুরু হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- যুক্তফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন।

বিএনপির পক্ষে ছিলেন- দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এমবি