জাতির দুর্দিনে দেশের বুদ্ধিজীবীসহ, চিন্তাশীল ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের এক কাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশে এই মুহুর্তে মৌলিক অধিকার হরণ ও মানবাধিকার লুন্ঠিত হচ্ছে।এ অবস্থায় চুপ করে ঘরে বসে না থেকে আসুন অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শরিক হই।
রবিবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আওয়ামী লীগ করে নাই, ভিন্নমত পোষণ করেন তাদেরকে হত্যা করার জন্য মুজিব বাহিনী তৈরি করা হয়েছিলো।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক নির্বাচন।আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে না বলে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে।৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আজ আওয়ামী ফ্যাসীবাদী সরকারের হাতে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের রক্ত ছুয়ে শপথ নিতে হবে।আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আর এর জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সবাই কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।শুধু ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়নি।হত্যা করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে সমগ্র নয় মাস ব্যাপী প্রতিটি দিন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ লজ্জ্বা শরম হায়াহীন অথচ মুখে গণতন্ত্রেরও কথা বলে।তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।আজ ৪৩ বছর পর নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়েছে।বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন গুম খুন হত্যার মাধ্যমে ধবংস করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ প্রমুখ ।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবদিন ফারুক।
এমএইচ/এমকে





