বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়া ঘোষণা করেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিদায় করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। একদলীয় বাকশাল নয়, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। আওয়ামী লীগকে বিদায় করে ঘরে ফিরব।'
তিনি বলেন, সময়মতো আন্দোলনের ডাক দেব। এবার আর ব্যর্থ হবো না। অবশ্যই আগের মতোই জয়ী হব। রক্ত দেওয়ার জন্য তৈরি আছি। স্বৈরাচার এরশাদকে বিদায় করেছি। হাসিনাকেও বিদায় করব।
বৃহস্পতিবার বিকালে নীলফামারীর ছমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
যারা সংসদে আছেন তারা জনপ্রতিনিধি নয় এমন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার মিথ্যার ওপর ভর করে টিকে আছে। ৫ জানুয়ারি কোন নির্বাচন হয়নি। ভোট কেন্দ্রে কোন মানুষ যায়নি। সংসদে যারা আছেন তাদের জনগণ ভোট দেয়নি। ১৫৩টি আসনে কোন ভোট হয়নি।
আ’লীগের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ২০০৮ সালের পর যতগুলো উপনির্বাচন হয়েছে কোনটিই সুষ্ঠু হয়নি। আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনেও ভোট ডাকাতি করেছে। তারা কোনো ভোট হতে দেয়নি। একতরফাভাবে তাদের প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করেছে। এজন্য দরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ অথর্ব আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ কমিশনের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ কমিশনকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এরা দায়িত্বে থাকলে মানুষের ভোটের অধিকার থাকবে না।
বিদেশী রাষ্ট্রের প্রধানদের সঙ্গে শুধু ছবি তুললেই স্বীকৃতি পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র না থাকলে কেউ স্বীকৃতি দেবে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র না থাকায় এই অবৈধ সরকারকে বিদেশীরাও স্বীকৃতি দেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের গুম, খুন ও অপহরণের সমোলোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আমরা র্যাব গঠন করেছিলাম আওয়ামী লীগের আমলের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্য। রাজনীতিবিদদের ধরার জন্য নয়। কিন্তু এখন র্যাব মানুষ খুন-গুম করছে। পথে-ঘাটে, খাল-বিল ও নদী-নালায় লাশ পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্যই আমরা বলেছি, এই র্যাব বাতিল করতে হবে। র্যাব দিয়ে মানুষ খুন-গুম চলবে না।
পুলিশের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আপনাদের দায়িত্ব মানুষের সেবা করা। কিন্তু এই অবৈধ সরকারের সঙ্গে মিলে মানুষ গুম-খুন করবেন না। এগুলো বন্ধ করেন। কারণ আপনাদেরও মা-বোন আছে।
সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নতুন নতুন আইন করছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা নতুন নতুন আইন করছেন, সম্প্রচার নীতিমালা, অভিশংসন আইন সংশোধন করছেন। আমি বলবো এগুলো বাদ দেন। কারণ এগুলো বৈধ হবে না। আপনারা গণবিচ্ছিন্ন বলে এগুলো করছেন, কারণ জনগণ আপনাদের সঙ্গে নাই। সম্প্রচার নীতিমালা করে বিরোধীদলের মুখ বন্ধ করা যাবে না।
সরকার লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে এমন অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, সরকার লুটপাট করে ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাদের মন্ত্রীরাও ব্যর্থতা স্বীকার করছেন।
এ সময় তিনি বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কী পরিমাণ অর্থ লুট করেছে তার পরিসংখ্যান ও তুলে ধরেন।
বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা জনগণকে ধোকা দিয়ে কুইক রেন্টালের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এতো এতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলে, কিন্তু বিদ্যুৎ গেল কই? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, জামালপুরের মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, নীলফামারীর মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, ঢাকায় কেবল লোডশেডিং। তাহলে কুইক রেন্টালের বিদ্যুৎ কই?
তিনি বলেন, শুনতে পাচ্ছি এখন নাকি আবারও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এটা মানুষ কখনো মেনে নেবেনা।
আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, অনির্বাচিত এ সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনে নামতে হবে। আপনারা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। সময় হলে আন্দোলনে ডাক দেবো।
নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক আনিসুল আরেফীন চৌধুরী সভাপতিত্বেসমাবেশে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাপ (ভাসানীর) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এমএইচ





