বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে সাবধান করে বলেছেন, অনেক অপকর্ম করেছেন, আপনাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে আর বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আপনাদের বিদায় নিতেই হবে। তাই সময় থাকতে গুম, খুন, নির্যাতন বন্ধ করুন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ৭ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সন্তান হারা মায়ের চোখের কান্না বৃথা যেতে পারেনা মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, বিদায় নিলেই শেষ নয়। মৃত্যুর পরে যেমন সকল কাজের হিসাব দিতে হয়। আপনাদেরও সকল অপকর্মের জবাব দিতে হবে। আমরা আপনাদের ক্ষতি চাইনা, এখনও সময় আছে তাই আপনাদের অনুরোধ করব দেশের মানুষের উপর আর নির্যাতন করবেন না। এর ফল হয় খুব ভয়াবহ।
তিনি বলেন, আপনারা সব ক্ষেত্রে দলীয় করন করে রেখেছেন। তবে এটা স্মরণ রাখবেন আপনারা বিদায় নেয়ার পর দলীয় করন করে যাদের নিয়োগ দিয়েছেন আপনাদের অপকর্মের সাথী হিসেবে তারা তখন আপনাদের কথা আর শুনবেনা। তাই সময় থাকতে সাবধান হোন।
বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা এখন বন্ধুহীন হয়ে পরেছেন। সামনে আরও বন্ধুহীন হয়ে যাবেন। তাই আপনাদের শেষ ভরসা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, গুন্ডালীগ আর অস্ত্র, আপনারা যে অস্ত্র আমাদের দিকে তাক করেছেন তা একদিন আপনাদের দিকেই তাক হতে পারে। সেটিও মনে রাখবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,  বাংলাদেশে এখন শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়া আর কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই। যে কোন মানুষ এদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবনস্থান নেয় তাকে হয়তো গুম, খুন, অথবা মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হবে। আজ বাংলাদেশের মানুষ কঠিন সময় পার  করছে। কোন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। দেশে এখন কোন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র নেই বলে দেশে কোন আইনের শাসন নেই।
বিএনপি নেত্রী বলেন, সরকারের লজ্জা সরম থাকলে তাদের উচিত হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার অংশ গ্রহণে নির্বাচন। তারা যদি মনে করেন অনেক কাজ করেছে তাহলে জনপ্রিয়তা যাচায়ের একমাত্র উপায় নির্বাচন। নির্বাচন দিয়ে নিজেদের অবস্থান কতটুকু তা প্রমাণ করুন।
তিনি বলেন, বিএনপি আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে। পানি সংরক্ষণ করতে না পারলে দেশের কৃষি, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরো ঘনীভুত হবে। তাই আমরা ক্ষমতায় গেলে পানি ধরে রাখার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি বলেন, এই সরকার দেশেটাকে ফোকলা করে দিয়ে যে টাকা কামাই করেছে তা দিয়ে তারা শান্তিতে থাকতে পারবে সারা জীবন। দেশে না থাকলে বিদেশে গিয়েও থাকতে পারবে। আমাদের তো তাদের মত সেই অবৈধ অর্থ নেই, আমাদের কে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এ দেশে বসবাস করতে হবে।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অনেক করেছেন, দেশের প্রতি সামান্য দরদ থাকলে আপনাদের আহ্বান জানাই আসুন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি। এই দেশ আমাদের আপনাদের সবার।
বিএনপি চেয়ারপারসন শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা তরুন নেতৃত্বকে দলের নেতা নির্বাচন করবেন। কারন আন্দোলন সংগ্রামে তরুণরাই সাহসী ভূমিকা পালন করতে পারে।
কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ  আবু জাফর, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সভাপতি আবুল কাশেম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবর রহমান সারোয়ার প্রমুখ।
কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান  চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আহমদ আযম খান, শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ
দুই দিনব্যাপী এই কাউন্সিল অধিবেশনে আগামীকাল রোববার শ্রমিক দলের প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ১৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]