স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।

আজ ১০ ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষের ঘর-বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করছে। সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে স্কুল ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না।

দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে চলছে গণগ্রেফতার এবং প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর। ৯ ফেব্রুয়ারী শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াত অফিসে যৌথবাহিনী হামলা চালিয়ে ১টি কমপিউটার, গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র ও বই-পুস্তকসহ প্রায় চার লক্ষ টাকার পরিমাণ ক্ষতিসাধন করে।

জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারী, শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মু. জাফর আলীর বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তার ছেলে ছাত্রশিবির শিবগঞ্জ দক্ষিণ থানা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ মু. জাবেরকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী।

আজ ১০ ফেব্রুয়ারী যৌথ বাহিনী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী শাহ মিজানুর রহমানের বাড়ি ও মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সেক্রেটারী জাফর আহমাদের বাড়িসহ ৫জনের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারী নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনের বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ঘরের দরজা, জানালা, আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে এবং নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গিয়েছে।

আজ নোয়াখালী শহরের একটি কোচিং সেণ্টার থেকে ১ জন মহিলা অভিভাবকসহ ১৮ জন ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সকলেই নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার মধ্যে ৫ জনকে এখনও থানায় আটকিয়ে রাখা হয়েছে।

সরকার গোটা দেশে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি সরকারের এ সব হিংস্র ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।

আজও রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় চার শতাধিক নেতা-কর্মীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারী জনাব আবু বকর সিদ্দিক ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার জিহালা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর জনাব আবদুল আজিজ।

সরকার গোটা দেশকে এক বৃহৎ কারাগারে পরিণত করেছে। সরকারকে এ জন্য অবশ্যই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। জনগণকে গ্রেফতার করে  অবৈধভাবে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা যাবে না।

২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সাফল্যের চূড়ান্ত সীমায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি দেশের সংগ্রামী জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

এসএইচ