নির্বাচনের কমিশনের পক্ষ থেকে যতই অনুকূল পরিবেশের কথা বলা হোক না কেন বাস্তবে সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশ দেখা যাচ্ছে মাঠে। ক্রমেই বাড়ছে সংঘাত-সংঘর্ষ ও হামলা। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা তীব্রতর হচ্ছে।

গত দুই দিনে প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বেশির ভাগই বিএনপির নেতাকর্মী এবং একজন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীও আছে।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ গত ৯ দিনে সারাদেশে বিএনপির প্রায় ৩ হাজার ৩০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীও রয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার বিএনপির কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এখনো বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আছে যারা গ্রেফতার এবং পুলিশি হয়রানির কারণে নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে প্রচারণা চালাতে পারছেন না।

যদিও আগামী ৩০ তারিখে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিন্তু এখনো প্রধান বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্টের দাবি তারা কোনভাবেই নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে পারছেন না হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের কারণে।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের মদদে সারা দেশে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। জীবনের নিরাপত্তা চেয়েও পাচ্ছেন না ধানের শীষের প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকরা।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ সত্রিুয় হয়ে কাজ করছে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো জন্য।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের মুখপাত্র মো: মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ তার স্বাভাবিক নিয়মে আইনের অধীনে থেকে দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছেন।

এদিকে নির্বাচনের কোন অনুকুল পরিবেশ নেই বিএনপির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সিইসি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের একটি সুবাতাস, আবহ, একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনমুখী আচরণ লক্ষ করা গেছে।’

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে যাচাই বাচাই শেষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামার অনুমতি পায় প্রার্থীরা এবং আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


জেড