সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ‘ভাগ্য নির্ধারণ’ মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় ১০ ফেব্রুয়ারি।
গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলার প্রধান আসামি এরশাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার। এ রায় নিয়ে টেনশনে আছেন এরশাদ। আদালতে এরশাদকে বেশ বিচলিত দেখা গেছে। তার চেহারা ছিল বিবর্ণ।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। তবে তখন যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রচিকে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২২ জানুয়ারি ফের রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার দিন ধার্য করেন আদালত।
গত বছর ২০ নভেম্বর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন মামলার প্রধান আসামি এইচএম এরশাদের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম। ওই দিনও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আদালতে হাজির ছিলেন এরশাদ।
এর আগে মামলার শুনানির সময় আত্মপক্ষ সমর্থনে এরশাদ বলেন জেনারেল মঞ্জুরকে জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দেয়ার জন্য তৎকালীন সরকার রেডিও-টিভিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এর ফলে ধরা পড়ার পর মেজর মঞ্জুরকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনার পথে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে মঞ্জুর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব মাহবুবুজ্জামান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন,তখনকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নির্দেশে পুলিশ আবুল মঞ্জুরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।
২০১২ সালের ২ অক্টোবর নাজিমউদ্দিন রোডের বিশেষ এজলাসে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন এরশাদ।
চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যকাণ্ডের ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনারেল মঞ্জুরের বড় ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়,১৯৮১ সালের ১ জুন জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১৫ জুলাই তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা দায়েরের দীর্ঘ ১৮ বছর পর অবশেষে মামলাটি রায় ঘোষণা পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাজনীতি
টেনশনে এরশাদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ‘ভাগ্য নির্ধারণ’ মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় ১০ ফেব্রুয়ারি। গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলার প্রধান আসামি এরশাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার।





