বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক সমাজকল্যান মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর, পল্টন, ফকিরাপুল, মগবাজার, উত্তরা, যাত্রবাড়িসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
মিছিল শেষে পথসভায় বক্তারা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মুক্তি দেয়ার দাবী জানান এবং তিনিসহ সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবীতে বুধবার সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল পালনে জনগণকে স্বতস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানান।
রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারী মোবারক হোসাইন বলেন, সরকার একের পর এক বিচারিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এদেশের ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্বশুন্য করতে চায়।
সরকার এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলাদেশকে সৎ, দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর গত ৪৪ বছরে যাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন দূর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে পারেনি তাদেরকে মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। জামায়াতকে আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েই আওয়ামী লীগ এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিগত ৬ বছরে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী হত্যা করে বাংলাদেশের মাটি থেকে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশে ইসলামপ্রিয় জনগণের হৃদয় থেকে জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি।
সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের বিপুল জনসমর্থনে ভীত হয়ে সরকার প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আন্দোলনের নেতাকর্মীদের হত্যা ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের দু’জন সহকারী সেক্রেটারীকে শহীদ করেছে জুলুমবাজ সরকার।
এখন তারা দলের সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক সফল মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। হত্যা-গুম আর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে যেমন ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় নেতাকর্মীদের ভীত বা বিচলিত করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও একবিন্দু বিচলিত করতে পারবে না, ইনশায়াল্লাহ।
শত শত শহীদের রক্ত থেকে যে দূর্বিনীত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জন্ম নিয়েছে তা আজ গণবিদ্রোহে পরিণত হয়েছে। ধৈর্য্য, সাহসিকতা ও সহনশীলতার সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এদেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে একের পর এক ইসলামী নেতৃবৃন্দকে হত্যা এবং সারাদেশে গুম-খুন, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলেছে এর জন্য আওয়ামী লীগকেও একদিন বিচারের জনগণের কাঠগড়ায় মুখোমুখী হতে হবে।
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের প্রধান সড়কে অনূষ্ঠিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অন্যান্যেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান, মোঃ সোলাইমান, অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, নূরুল ইসলাম আকন্দ, রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আমীর মোঃ নাসিরউদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি মোঃ তামিম, শিবির নেতা আব্দুল আলিম প্রমূখ।
বিক্ষোভ কর্মসূচির একপর্যায়ে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশের নির্বিচার লাঠিপেটা ও টিয়ারশেলের বেশ কয়েকজন জামায়াত কর্মী আহত হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তায় তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী রমনা থানা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াত নেতা আজম কামাল উদ্দিন, ড. আহসান হাবিব, জিল্লুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, আতাউর রহমান সরকার, শিবির নেতা জামিল মাহমুদ ও আশরাফউদ্দিন প্রমূখ।
সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজধানীর উত্তরা আজমপুরে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আবু ফারহান, এ্যাডভোকেট শান্ত, আবু ওমর ও এম এ মান্নান, জামায়াত নেতা এমইউ নাঈম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি আবু আইউব প্রমূখ।
সকাল সাড়ে ১১টায় পল্টন ও ফকিরাপুল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি দৈনিক বাংলা, কালভার্ট রোড, ফকিরাপুল পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিন করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য কামাল হোসেন, শামসুর রহমান ও আমিনুর রহমান এবং শিবির নেতা শরীফ হোসাইন ও মুস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ।
এসএইচ





