মানবতাবিরোধী বিচারে বাধগ্রস্থকারীদের বিচার হওয়া উচিত মন্তব্য করে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, মানবাধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে অত্যান্ত সুষ্ঠ ও সুক্ষভাবে কিন্তু তাদের সমর্থন করে কথা বলছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সাপ্তাহিক মানবাধিকার খবরের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে মানবাধিকারের বিষয়ে কোন আপষ নাই। আমি বলতে চাই আমাদের দেশে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তাতে তাদেরকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যা পৃথিবীতে কোন দেশেই এই রকম স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার হয়নি। আজকে সেই বিচার সম্পর্কে বার বার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই বিএনপি-জামায়াত জোট চক্র ২০১৪ সালে যে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন সন্ত্রাস করেছে এগুলো কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? তাই আগামী দিনে গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করতে হলে এদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমাদের সামনে কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে। আমরা যদি এই পথ অতিক্রম করতে না পারি তবে দেশের এই অগ্রগতি থমকে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের যে ঘোষনা তাকে ভিত্তি করে যদি সামনে এগিয়ে যাই তবে আমাদের অগ্রগতি কেউ থামাতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মানবাধিকার আন্দোলনের মুল লক্ষ্য হচ্ছে, যে খানে আইনের শাসন থাকবে, যেখানে এই সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প থাকবে না। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন একদিনের আন্দোলন নয়। সামরিক শাসনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। সেসময় সুশীল সমাজ মিডিয়া সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে সেই সামরিক শাসকদের পতন ঘটিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা আমাদের দেশে মুক্ত চিন্তার প্রতিবন্ধক, সেই জঙ্গিরাই গণতন্ত্রের উপর আঘাত হেনেছে বার বার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রী পরিষদ নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও চেষ্টা করছেন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার। দেশের সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বিশ্বের দরবারে আজকের সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মানবাধিকার খবরের প্রকাশক ও সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।
এআই





