ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র সাবেক ভিপি নুর ও তাঁর সহযোগীদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না- তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পদদেশে এক বিক্ষোভ-সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহবুব ধর্ষণে সহযোগিতার মামলায় নুর ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেফতারের আহ্বান জানান।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যেখানে সমাবেশ করে তার পাশেই অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন নুরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী ঢাবি শিক্ষার্থী। মূলত ওই শিক্ষার্থীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আজ ক্যাম্পাসে পদযাত্রা ও সমাবেশ করে।
এ সময় নুর-মামুনদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা সনেট মাহবুব। তিনি আরও বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নুর-মামুনদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।” এছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন ধর্ষণের ঘটনায় রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন ঢাবির ওই ছাত্রী। ছাত্রলীগের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সেখানে অবস্থান নেন। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন নেতাকর্মীও এর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন।
ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জেরিন তাসনি পূর্ণি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফারজানা নিপা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হেসেন নিশি।
ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (২৫), ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) ও আব্দুল্লাহিল বাকি (২৩)। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরের দিন একই আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন একই বাদী। পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং হেয়প্রতিপন্ন করে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার করার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা করা হয়। কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় নাজমুল হাসান সোহাগকে ১ নম্বর, হাসান আল মামুনকে ২ নম্বর ও নুরুল হক নুরকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।
ভিপি নুরুল হক নুরের দাবি, “আমরা যেহেতু সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলি, তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ মামলা করা হয়েছে।”
এমবি





