কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ জনসভার মূলভ্যানু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরেও অবস্থান নিতে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষকে। শাহবাগ হয়ে উদ্যানমুখী সড়কেও নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। শুধু শুধু শাহবাগ-মৎসভবন নয় আশপাশের অলি-গলিতে ও পাশ্ববর্তী রমনা পার্কেও হাজারও নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন।
বিএনপির আজকের জনসভায় উপস্থিত আছেন- দলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের সিনিয়র নেতারা। সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে সাতটি দাবি পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিএনপির জনসভা থেকে দলটির আগামী দিনের আন্দোলনের কর্মসূচির বিষয়ে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিবেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হলেও সকাল ১০টা থেকেই জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ব্যানার, ফেস্টুন, হেডার, দলীয় প্রতীক ধানের শীষের রেপ্লিকা, নামাঙ্কিত টি-শার্ট পরে দলে দলে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন তারা।
বিএনপির এই জনসভাকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান। নজরদারি করছে গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা। মূলত যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে জনসভা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার ডিএমপির পক্ষ থেকে ২২ শর্তে বিএনপিকে জনসভা করা অনুমতি দেয়া হয়।
বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথি কারাবন্দি খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল নেতাকর্মীদের নামে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটির জনসভা শুরু হয়েছে।
আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বানানো ৪৮ ফুট বাই ২৪ ফুট মাপের মঞ্চের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে লেখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম। মঞ্চে তার জন্য একটি চেয়ার ফাঁকা রাখা হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের দণ্ড নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে বন্দি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদার মুক্তির শর্তও ররেছে বিএনপির।
সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছিল বিএনপি। ওই সভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বক্তব্য দিয়েছিলেন।
দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, “আমাদের নেত্রীকে সম্মান দেখানোর জন্য, তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন, নেতাকর্মীদের হৃদয়েই আছেন- সেটা বোঝাতেই আমরা প্রধান অতিথি হিসেবে তার নাম রেখেছি।”
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতারাও বক্তব্য রাখবেন।
জনসভার ব্যানারে লেখা রয়েছে- মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জনসভা।
ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম লেখা রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমাদের নেত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। এটা আমরা মানি না, তাই নেত্রীকে প্রধান অতিথি করেছি। মঞ্চে খালেদা জিয়ার জন্য একটি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আয়োজিত এ জনসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ -এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ের পর থেকেই একমাত্র বন্দ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
এমবি





