রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির মাস পবিত্র মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা, তাকওয়া ভিত্তিক ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা ও আত্মশুদ্ধির জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, কুরআনের মাস,রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান সমাগত। এ মাসেই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ পবিত্র আল কুরআন নাযিল হয়েছিল। আর কুরআন নাজিল হওয়ার হওয়ার কারণেই রমজান মাস অধিক মহিমান্বিত। কুরআন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও ম’ুজেজা। আল কুরআনেই মানুষের সকল সমস্যার যৌক্তিক ও কাঙ্খিত সমাধান। তাই আর্ত-মানবতার মুক্তির জন্য আমাদেরকে কুরআনের আদর্শের দিকেই ফিরে আসতে হবে। আর ওহীর আদর্শ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়সহ সকল সমস্যার সমাধান।
তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস পবিত্র মাহে রমজান। শুধু পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম সাধনা নয় বরং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে দুনিয়াবি সকল লোভ-লালসা ও ইন্দ্রিয়পরায়নতার উর্দ্ধে থেকে একটি ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার সপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালানোয় রমজানের প্রকৃত শিক্ষা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
পবিত্র কালামে হাকীমে এরশাদ করেছেন, ‘ তোমাদের উপর সিয়াম সাধনাকে অত্যাবশ্যকায়ীয় করে দেয়া হলো, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর অত্যাবশ্যকীয় করা হয়েছিল; যেন তোমরা আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অর্জন করতে পার’। হাদিসে কুদসীর বর্ণনা মতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘সিয়াম শুধু আমার জন্যই, আর আমিই এর যথার্থ প্রতিদান দিয়ে থাকি’। আর পবিত্র কালামে পাকের ভাষ্যমতে, এই মাসেই একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে, যার মর্যাদা হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। তাই এই মহিমান্বিত মাসের হক যথাযথভাবে আদায় করে সকলকে সিয়াম মাধনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, পবিত্র মাহে রমজান সবর ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতির মাস।
দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষুন্নিবৃত্তির কষ্ট যাতে সকল শ্রেণির মানুষ উপলব্ধি করতে পারেন, এই জন্যই সকলের জন্যই সিয়াম পালন ফরজ করা হয়েছে । কিন্তু পবিত্র মাহে রমজানের সম্মানে এবং রোজাদারদের সুবিধার্থে দ্রব্যমূল্য কমানো যৌক্তিক হলেও সরকার নতুন বাজেটে অধিকহারে ভ্যাট ও করারোপ করে রমজান মাস আসার আগেই দ্রব্যমূল্য আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রমযানের পবিত্রতা রক্ষা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নগ্নতা বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে মানুষের জানমাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বও
সরকারের। কিন্তু এসব বিষয়ে সরকার পুরোপুরি উদাসীন। তিনি রোজাদারদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি এবং পবিত্র মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা, তাকওয়া ভিত্তিক ন্যায়-ইনসাফের সমাজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
এআই





