দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাকে আপাতত ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়েই থাকতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে শনিবার রাতে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও তার সেই চেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে।

সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির আগের রাত ৪ জানুয়ারি নিজ বাসায় খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা সরকারের ছিলো-এমন খবর জানতে পেরেই শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয় থেকে সোজা নয়াপল্টনে গিয়ে উঠতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

এ জন্য সেখানে অবস্থানরত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর অসুস্থার গল্পও প্রচার করা হয়েছিলো। কিন্তু খালেদা জিয়ার আশপাশে থাকা ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ আগে থেকেই সব পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশান কার্যালয়েই অবরুদ্ধ করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বপালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকশ না করার শর্তে বলেন, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) ৪ তারিখ রাতে তার বাসায় অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু ওনার নয়াপল্টন যাওয়ার পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আজই (৩ জানুয়ারি) ওনাকে অবরুদ্ধ করতে হলো।

গুলশান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ম্যাডাম আর বের হচ্ছেন না। অফিসের থাকার সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও অফিস থেকে বের হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অফিসেই থেকে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন খালেদা জিয়া।

এদিন রাত পৌনে ১টার দিকে তার গৃহকর্মী কুলসুম বেগম ওষুধপত্র, খাবার-পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিস গুলশান কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

তাছাড়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী সুলতানা আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমীন, সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, নীলোফার চৌধুরী মনি, আশিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানুসহ মহিলা দলের অন্য নেতা-কর্মীর জন্য গুলশান কার্যালয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার অফিস ও বাসার সামনের সড়কে ‘প্রতিবন্ধকতা’ জোরদার করা হয়েছে।

গুলশান কার্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশের গাড়ি ও রিকুইজিশন করা বাস এনে রাস্তার ওপর আড়া-আড়িভাবে রাখা হয়েছে।

রাত ৩টার দিকে খালেদার বাসার কাছে গিয়ে দেখা যায় সেখানে পাথরভর্তি একটি ট্রাক (১৮১০৮৭ ট, ঢাকা মেট্রো) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোববার সকাল নাগাদ এটি গুলশান কার্যালয়ের সামনের সড়কে আনা হতে পারে বলেও জানা গেছে। তবে ভোর সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাথরভর্তি ট্রাকটি খালেদা জিয়ার বাসার পাশেই রয়েছে।

এদিকে পুলিশের প্রায় ২০/২৫টি গাড়ি গুলশান কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছে। এসব গাড়িতে পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি অসংখ্য নারী পুলিশও রয়েছেন।

তবে খালেদার এই সংকটকালে বিএনপির কোনো পর্যায়ের কোনো নেতা-কর্মীকে গুলশান কার্যালয়ে দেখা যায়নি। কেবল কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মিয়া সম্রাট গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

এএইচ