বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মীরা। যদিও এখনো নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা বা সাক্ষাতের কোনো সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়নি।
খালেদা জিয়ার সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে বিএনপির কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে লন্ডনে এসেছেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গেও খালেদা জিয়ার দেখা হয়নি বলে জানা গেছে। এসব নেতাও অপেক্ষায় আছেন কখন খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ডাক পড়ে। এদিকে ঠিক হয়নি চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের দিনক্ষণও। একান্ত পারিবারিক আবহে খালেদা গত তিন দিন কাটিয়েছেন। গত বুধবার সকালে তিনি লন্ডনে আসেন। এবার তিনি এখানেই কোরবানির ঈদ করবেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালেদা জিয়া তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় আছেন। সেটা আবাসিক এলাকা হওয়ার কারণে সেখানে গিয়ে ভিড় জমানো সম্ভব হচ্ছে না। হোটেলে অবস্থান করলে তারা নিশ্চয়ই সাক্ষাতের জন্য ভিড় জমাতেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা আবু সালেহ মো. সায়েম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর চেয়ারপারসন লন্ডনে এসেছেন। এর মধ্যে তাঁর ছোট ছেলের মৃত্যুসহ রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নানা ধকল সইতে হয়েছে। আমরা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।’
যুক্তরাজ্য বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হোসেন জাহিদ বলেন, ‘এটা নেত্রীর ব্যক্তিগত সফর। তাঁর চিকিৎসার বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু হাজার হাজার নেতা কর্মী অপেক্ষা করচ্ছেন কখন নেত্রী তাদের সামনে হাজির হবেন।’
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ বলেন, গত বুধবার খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে শত শত নেতাকর্মী হিথরো বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। কথা ছিল বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই নিকটবর্তী সোফিটেল হোটেলের একটি মিলনায়তনে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি।
নেতাকর্মীরা যাতে অনুমতি ছাড়া তারেক রহমানের বাসার দিকে না যান, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে বলে জানালেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় আট বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা এক মঞ্চে দাঁড়াননি। দুই নেতাকে নিয়ে তাঁরা শিগগিরই একটি সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করছেন।
২০০৬ সালের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর লন্ডনে খালেদার এটি দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তারেক রহমানকে দেখতে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে আসেন। সেই থেকে স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছেন। খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে তাঁর প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও দুই কন্যা জাফিয়া ও জাহিয়া রহমান কয়েক দিন আগেই লন্ডনে চলে আসেন। দীর্ঘ আট বছর পর খালেদা তাঁর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবেন।
জেআই





