দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নেই, আছে কেবল গুম-খুন এমন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে তার বিজয় হবেই।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকারও নেই। আছে কেবল গুম-খুন। এই গুম-খুনে কেউ সন্তানহারা, কেউ ভাইহারা, কেউ স্বামীহারা হচ্ছেন।
এসময় তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে মানবাধিকার লংঘন হলেও জাতিসংঘ কোন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নিয়ে মানবাধিকার দিবস পালন করায় সংস্থাটির প্রতি ডাবলস্ট্যান্ড নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এক দিকে বোমা মেরে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।অন্যদিকে সাগর পারি দেওয়ার সময়ে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আদায়ে গণতন্ত্রের রীতিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। যে অধিকার নেই তা ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে তার বিজয় হবেই হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের যেসব নেতাকর্মী গুম হয়েছেন তাদের স্বজনদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকটাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
সভার শুরুতে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজন হারানোর ব্যথার কথা তুলে ধরেন। এসময় গুম হওয়া তিন নেতার শিশু সন্তানেরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বাবাকে ফিরিয়ে দেয়ার আকুল আবেদন জানায়।
এছাড়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা সন্তানকে খুঁজে না পাওয়ার অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কথা শুনে অবশ্য তখন আসনে অবস্থানরত মির্জা ফখরুলকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান প্রমুখ। এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকেও অনেকেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
এমএইচ





