জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে দলদাস নির্বাচন কমিশন। সরকারদলীয় প্রার্থীরা অবাধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। অন্যদিকে, বিরোধী প্রার্থীদের মাঠে নামতেই দেয়া হচ্ছে না।

রোববার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে সরকার। নির্বাচনের আগ মুহূর্তেও সরকার সমর্থকসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উন্মোত্ত আচরণ অব্যহত রয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দেয়া হলেও নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চুপ। বারবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। প্রচারণার শেষ দিনেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার, হয়রানি এবং সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা, প্রচার মাইক ভাংচুর, প্রচারকাজে বাধাদান, লিফলেট-পোষ্টার ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া গেছে। এসব কারনে রোববারও অনেক প্রার্থী মাঠেই নামতে পারেননি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিরোধী পক্ষকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার অপচেষ্ঠা নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র নগরবাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে।

জামায়াত নেতা খান বলেন, সিটি উত্তরের ৪ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী লষ্কর মো. তসলিমের পক্ষে ঠেলাগাড়ি প্রতিকের পক্ষে প্রচারনা চালানোর কারনে তারেক রেজা তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় তাকেও গ্রেফতারের হুমকি দেয়া হয়। বিকালে গণমিছিলের আগমুহূর্তে তার বেশ কয়েকজন সমর্থককে মারধর করে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীরা।

২৯ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইকবালের মিষ্টিকুমড়া প্রতিকের পোষ্টার, ৩৬ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মাওলানা সালেহ সিদ্দিকীর লাটিম প্রতিকের পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে।

২৬ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী শরিফ মিজানুর রহমানের ট্রাক্টর প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তেজকুনিপাড়া থেকে ৫জন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিটি দক্ষিণের ১৩ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আনজুমান আরা রবের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় রোববারও ন্যাক্কারজনকভাবে বাধা দিয়েছে পুলিশ। কাটাচামুচ প্রতিকে প্রচারণার সময় শান্তিনগর এলাকায় তার কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ।

সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ২, ৩ ও ৪ নং আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী শামিমা আক্তারের প্রচারণায় হামলা অব্যহত রেখেছে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী ও মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি আনিসুর রহমানের কর্মীরা।

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াতসহ বিরোধীদলের প্রার্থীদের উপর সরকারদলীয় সমর্থকদের অব্যহত হামলা, প্রচার-প্রচারণায় বাধা, লিফলেট-পোষ্টার কেড়ে নেয়া, নির্বাচনী অফিস ভাংচুর এবং প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মিথ্যা ও সাজানো মামলা-গ্রেফতার, বাসায় তল্লাশির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের এই নেতা।

কেএইচ