রাজধানি ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াতের ঢাকা ২৪ ঘন্টার হরতালকে কেন্দ্রকরে জামায়াত-শিবিরের উপর ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।

হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরসমূহসহ দেশব্যাপী পুলিশের তল্লাশি ও ধরপাকড় অব্যাহত। পুলিশের অভিযানের অংশ হিসেবে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে তল্লাশি। এতে অনেক সাধারণ মানুষের ভিতর আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবার অনেক সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকা: রাজধানীর হাতিরপুল থেকে নিউমার্কেট থানা সেক্রেটারি মুহিব্বুল হক ফরিদসহ ৫ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল সোয়া ৭ টার দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করার পরই পুলিশ তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেছে জামায়াত।

আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এমন কোনো আটকের ঘটনা ঘটেনি।

অপরদিকে রাজধানীর মগবাজার ও মালিবাগ এলাকা থেকে ১৬ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, পুলিশ বলছে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার সকাল ৮ টার দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিলের প্রস্তুতিকালে মালিবাগের আবুল হোটেলের নিকট থেকে এ রহমান নামে একজন ও মগবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ১৫ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে জামায়াতের দাবি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার এসআই ও নয়াটোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিলুর বলেন, সকালে আবুল হোটেলের কাছ থেকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ব্যানারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। আর সন্দেহজনক হিসেবে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নাশকতার অভিযোগে হাজারীবাগ থেকে বোরহান উদ্দিন নামের এক শিবির কর্মীকে আটক করা হয়।

তবে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এড়িয়ে গেলেও পুলিশের এক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, আমরা তাকে আটক করিনি, গতকাল দুপুরের পর জনগন তাকে নাশকতার অভিযোগে আটক করে আমাদের হাতে সোপর্দ করে। সে পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে আগামী রোববার হরতাল সফল করার জন্য তারা কাজ করছে।

রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘা পৌর জামায়াতের আমির অধ্যপক সাইফুল ইসলাম-সহ তিন জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ডাদেশ সুপ্রিশ কোর্টের আপিল বিভাগে বহাল রাখার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ডাকা হরতালের অংশ হিসাবে বাঘায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল পৌর জামায়াতের।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোর রাতে পৌর জামায়াতের আমির অধ্যপক সাইফুল ইসলাম-সহ উপজেলা জামায়াতের সুরা সদস্য আকরাম আলী ও পৌর জামাতের সুরা সদস্য সাজেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

নওগাঁ: নওগাঁ পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আব্দুল খালেককে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার দুপুর ২টার দিকে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাঁবাড়ীয়া মহল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুল খালেক নওগাঁ পৌরসভার চকপ্রসাদ মহল্লার মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিরুল ইসলাম জানান, গত বছর সারা দেশে জামায়াত-বিএনপির তাণ্ডবের সময় বিভিন্ন নাশকতা ঘটানো হয়।

আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে নওগাঁয় বাস পোড়ানো মামলাসহ নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদে তাকে বাঙ্গাঁবাড়ীয়া মহল্লা থেকে গ্রেফতার আটক করা হয়। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার দেশব্যাপী জামায়াতের শান্তিপূর্ণ হরতাল চলাকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান তার বিবৃতিতে বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল আহ্বান ও পালন করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।

শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে সরকার চরম জুলুম করেছে।

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, "আজ ৮ মে জামায়াতের হরতাল কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। সরকার এ শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একদিকে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।

অন্য দিকে সরকার দলীয় ক্যাডার এবং সন্ত্রাসীদের রাস্তায় নামিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে।

আজ ৮ মে মিরপুরে নিজেদের মধ্যে যে সমস্ত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাস ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে তাদের গ্রেফতার না করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে সরকার প্রমাণ করল গণতন্ত্রের নামে সরকার স্বৈরতন্ত্রের দিকেই হাঁটছে।"

"পুলিশ ঢাকা মহানগরীর নিউ মার্কেট থানা জামায়াতের সেক্রেটারী জনাব মুহিদুল হক ফরিদসহ নিউ মার্কেট এলাকা থেকে ৫ জনকে, রমনা থানা এলাকা থেকে জামায়াতের স্থানীয় নেতা এ. রহমান ও সাধারণ পথচারীসহ প্রায় ১৫ জন লোককে, নোয়াখালী জেলার চাটখিল পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারী জনাব হারুন-অর-রশিদকে, রাজশাহী পূর্ব সাংগঠনিক জেলায় ৩ জন কর্মী ও খুলনা মহানগরীতে ৫ জন কর্মীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী।"

তিনি আরো বলেন, "সরকারের রক্তচক্ষু ও গ্রেফতার অভিযান উপেক্ষা করে দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করে মাওলানা নিজামীকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করেছে এবং জনগণ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে যে, জনগণ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মুক্তি চায়।"

মাওলানা নিজামীর মুক্তির দাবি করে তিনি বলেন, "সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

এসএম