বর্তমান অবৈধ সরকারের দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ব নেই এমন দাবী করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তাদের লোভ হল দেশের সম্পদ ও ক্ষমতার প্রতি। এ জন্য তাদের লক্ষ্য হল যা পাই তাই খাই।
মঙ্গলবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারাদেশে গুম-খুনের প্রতিবাদ, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ টাকা দেখলে তাদের লোভ সামলাতে পারে না। এরা লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এসব কিছুর তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সব কিছুর জন্য বর্তমান সরকারকে একদিন জবাবদিহি করতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দেশে কোন নির্বাচিত সরকার নেই। যারা ক্ষমতায় আছে তারা অবৈধ সরকার। জনগণ এদের ভোট দিয়ে নির্বাচন করেনি। তাই তাদের সংবিধান সংশোধন করার অধিকার নেই।
র্যাবের এখন গ্যাংগ্রীন (পঁচন) ধরেছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, র্যাব আমরা তৈরি করেছিলাম সন্ত্রাস দমনে। আর এ সরকার র্যাব দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তাই র্যাবকে আর রাখা যায় না। এদের বাদ দিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের ৭ খুণের ঘটনায় জড়িত র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল হাসান এখনও চাকরীতে কিভাবে বহাল থাকে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, তাকে জিজ্ঞাসা করলে অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে। এমনকি আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ৭ খুনের বিষয়ে অবহিত আছেন।
আওয়ামী লীগ মসজিদ, মন্দির ও এতিমখানার বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করছে এমন অভিযোগ করে খালেদা বলেন, এরা দেশের উন্নয়নের বদলে নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত। তাই মসজিদ ও মন্দিরের টাকাও মেরে দিচ্ছে। এমনকি খাল, নদী যা আছে তাই দখল করে নিচ্ছে।
সরকারকে খুনী অবহিত করে বিএনপি নেত্রী বলেন, এরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করেই থেমে থাকে নি। এই সরকার আলেম-ওলামা ও এতিমদের হত্যা করে অনেক লাশ গুম করে ফেলেছে। তাই এই সরকারকে খুনী ছাড়া আর কোনো উপাধি দেয়া যায় না।
খালেদা জিয়া বলেন, এই খুনীরা ভবিষ্যতে আপনাদের কাছে হিজাব-টুপি পড়ে আবারো ভোট চাইতে আসবে। তখন তাদের কাছে এসব বিষয়ে জবাব চাইবেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত বিএনপির সঙ্গে আছে তাই তাদের খারাপ বলা হয়। জামায়াত এক সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গেই ছিল। তখন জামায়াত ছিল আওয়ামী লীগের বন্ধু। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। এই হলো তাদের অবস্থান।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, হাসিনা নিজেই বলেছেন তার দলের সবাই বিক্রি হতে পারে কিন্তু তিনি বিক্রি হন না। তাকে জিজ্ঞাসা করেন, এর আগে আপনি বহুবার বিক্রি হয়েছেন। ৮৬ সালে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনে যাবেন না।
বলেছিলেন যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান। কিন্তু এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে তারা নির্বাচনে গিয়েছিল। তিনি বিক্রিও হলেন জাতীয় বেঈমান খেতাবও পেলেন। জাতীয় বেঈমানদের কী বিশ্বাস করা যায়? যায় না।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন সত্য কথা বলতে না পারে এবং এদের অপকর্ম মানুষের কাছে তুলে ধরতে না পারে সেজন্য সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। যাতে গণমাধ্যমকে ভয় দেখাতে পারে। আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এজন্য তারা দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান ও আমারদেশ পত্রিকা বন্ধ করে রেখেছে। সত্য কথা বলার কারনে মাহমুদুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় জেলে আটকে রেখেছে।
এই সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে দেশবাসিকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে এমন দাবী করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা কুইক রেন্টালের নামে কোটি কোটি টাকা সরকারী কোষাগার থেকে নিয়ে গেছে। কিন্তু জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের আবারো বলছি, আপনারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের রক্ষার দায়িত্ব নিবেন না। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের উষ্কানীতে বাধা দিবেন না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আপনাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করে না।
দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এমন দাবী করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। নতুন কল-কারখানা চালু হচ্ছে না। সে জন্য কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ তৈরী হচ্ছে না। আর এতে করে বেকার সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।
খালেদা জিয়া তার সরকারের নেয়া দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমাদের সময়ে আমরা দেশের উন্নয়নে গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে দেশের মানুষ এর সুফল ভোগ করেছিল। আগামীতেও ক্ষমতায় আসলে দেশের ও জনগণের উন্নয়নে বিস্তারিত কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে।
তিনি উপস্থিত তরুনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তোমাদের আন্দোলন করতে হবে। তোমরা কী সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। এসময় উপস্থিত জনতা ও তরুন সমাজ হাত উঁচিয়ে তাতে সায় দেন।
তিনি সমাবেশে উপস্থিত আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আপনাদের ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে দেশ রক্ষায় শরিক হতে হবে। আমি যেখানেই থাকি আপনাদের সাথে থাকব। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, মো. সালাউদ্দিন আহমেদসহ ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ঢাকা, এমএইচ, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





