আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চট্টগ্রামে মনজুর আলম ও ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। তবে উত্তরে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল হওয়ায় ঢাকার উত্তরের উপযুক্ত প্রার্থী নিয়ে অনেকটাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে ২০ দলীয় জোট।

তবে দলটির নেতাদের আশা আপিলে মিন্টুর প্রার্থীতা ফিরে পাবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীতা বাতিলের বিরুদ্ধে মিন্টুর আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করেছেন। যার শুনানি হবে (আজ) শনিবার। কিন্তু যদি কোনো কারণে মিন্টুর প্রার্থীতা ফিরে না পায় তাহলে কে পাবেন ২০ দলীয় জোটের সমর্থন? দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার মধ্যে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

যদিও ঢাকার দুইভাগের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টুর অবস্থান অন্যদের চেয়ে বেশি সুদৃঢ় ছিল। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর একারণে দক্ষিণে বিকল্প প্রার্থী দেয়া হলেও উত্তরে মিন্টুর বিকল্প কাউকে মনোনয়ন সংগ্রহ করার নির্দেশ ছিল না দলের পক্ষ থেকে।

এদিকে মিন্টুর প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে বলে জানা গেছে। কেউ বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল করা হয়েছে।

আবার কেউ বলছেন, চলমান আন্দোলনের শুরু থেকে মিন্টু আত্মগোপনে আছেন। সে কারণে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা সবকিছুই তার ছেলে ও আইনজীবী করেছেন। উনি ভালোভাবে দেখেশুনে কাজ করলে এমনটা হতো না। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।

দলের একটি একাংশ নেতাদের মত কোনো কারণে ‍মিন্টু প্রার্থী হতে না পারলে তার ছেলেকে সমর্থন করা হবে। এমনকি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ মিন্টুর ছেলেকে সমর্থন দেয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

তবে রাজনৈতিক মাঠে অপরিচিত তাবিথ আউয়ালকে শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিলে তা কতটা কাজে আসবে তা নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। কারণ এমন কথাও রাজনীতির মাঠে চাউর হয়েছে যে ২০ দলের সমর্থন পেলেও শেষ পর্যন্ত তাবিথ আউয়াল অজানা কারণে নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারেন।

আবার ২০ দলের একটি শক্তিশালী অংশ মনে করে মিন্টু ফিরে আসতে না পারলে বিকল্প ধারার মাহী বি চৌধুরীকে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন দিলে লড়াই জমে উঠবে। আর এ কারণে তাকে নিয়েও ভাবছে বিএনপি হাইকমান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত দল ও জোটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই উত্তরের প্রার্থী সমর্থন দিবে ২০ দলীয় জোট। গুলশান কার্যালয় সূত্রে এমন আভাস মিলেছে। তবে মিন্টুর আপিলের রায়ের পরই সব চূড়ান্ত হবে।

বুধবার মিন্টুর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার পর মাহী বি চৌধুরী নিজেও সাংবাদিকদের বলেছেন, 'ঢাকা উত্তরে বিএনপি যোগ্য প্রার্থী না পেলে তিনি বিএনপির সমর্থন চান।'

২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে উত্তরে কাকে সমর্থন দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির সমর্থনের বিষয়টি এক প্রকার চূড়ান্ত। তবে ঢাকা উত্তরে মিন্টুর প্রার্থীতা আপিলেও বৈধতা না পেলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উত্তরে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে (তাবিথ আউয়াল) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। ওখানে সে আছে। দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে, এখনো দল থেকে কাউকে সমর্থন দেয়া হয়নি। যাই করা হোক না কেন ২০ দলীয় জোটের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, মিন্টু সাহেবের প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে আপিল করা হয়েছে। আপিলের রায় হওয়ার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যথাযথ হবে। আমরা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি যখন তখন তো ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী মাঠে থাকবে। অপেক্ষা করেন সঠিক সময়ে জানতে পারবেন।

এমএইচ/ এআর