গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের পর প্রায় ৫ ঘন্টা পর রাত ১০টায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। এসময় নোমানসহ ১৩ জনকে আটক করে টঙ্গী থানার পুলিশ।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত করায় রোববার (০৬ মে) বিকাল ৫টার দিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের টঙ্গীর আরিচপুর বাসায় সংবাদ সম্মেলন থেকে বের হওয়ার পর তাদের আটক করে টঙ্গী থানা পুলিশ।   

মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের ডিএসবির পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ আল নোমানকে ছেড়ে দিয়েছে টঙ্গী থানার পুলিশ। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

আবদুল্লাহ আল নোমান বিবিসির কাছে অভিযোগ করেছেন, তিনি যখন গাজীপুরের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করে সেখান থেকে ঢাকা ফিরছিলেন, তখন পুলিশ তাকে গাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তিনি জানান, এ সময় পুলিশ তার সঙ্গে অসন্মানজনক আচরণ করে। থানায় তাকে প্রায় পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়। এরপর রাত দশটায় তিনি ছাড়া পান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন রোববার (০৬ মে) স্থগিত করেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এরপর বিকেলে টঙ্গীতে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ আবদুল্লাহ আল নোমানসহ ১৩ জনকে আটক করে। জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক জানান, সংবাদ সম্মেলন শেষে বিকেল ৫টার দিকে টঙ্গী থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হাসান উদ্দিন সরকারের বাসার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে। এ সময় নোমানের গাড়িসহ বিএনপির অন্য নেতাদের গাড়িতে তল্লাশি করে পুলিশ।

আটক অন্যরা হলেন- সোহেল, শহীদুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান শাকিল, কবির আহমেদ, আব্দুল কাইয়ুম, কাজী মোশারফ, আলাউদ্দিন, আব্দুল্লাহ ও ফরিদ। পরে পুলিশ সেখান থেকে আরো তিনজনকে আটক করে। আটককৃতদের টঙ্গী মডেল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের ওই বাসার আশপাশে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানান, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, গাড়ি ভাঙচুর ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আবদুল্লাহ আল নোমানসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের আরো অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে এই সিটি করপোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপি থেকে হাসান উদ্দিন সরকার মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। গাজীপুর মহানগর জামায়াত আমির এস এম সানাউল্লাহ স্বতন্ত্র পদে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন।

পরে তিনি ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে হাসান উদ্দীন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন। বিএনপির দাবি, দলটির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী সানাউল্লাহ’কে নেতাকর্মী’সহ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এমবি