বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে নেয়ায় সরকারিদল ও নির্বাচন কমিশন এখন নগরবাসী ও বিরোধীদল সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় দখলদার শাসকদলের ৫ই জানুয়ারি স্টাইল নির্বাচনের খায়েশ বাধা গ্রস্থ হয়েছে। তাই রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি অব্যাহত রেখেছে।
জামায়াত নেতা খান বলেন, জামায়াতের জনপ্রিয় নেতাদের নির্বাচন থেকে সরে যাবার জন্য প্রতিদিনই স্থানীয় এমপি ও থানার ওসিদের মাধ্যমে চাপ দেয়া হচ্ছে। তাদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রচার মাইক জব্দ ও কর্মীদের আটক করা হচ্ছে। পুলিশি হয়রানির কারণে নির্বাচনে লিফলেট ও ব্যানারও লাগাতে পারছেনা। শাসকদল ও প্রশাসনের হামলা, মামলা, আটক, হয়রানির বিরুদ্ধে নির্বাচন কোনই ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। যেন জামায়াত তথা বিরোধীজোট সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় নির্বাচন কমিশন হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বতনমূলক আচরণ করছে।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আরো বলেন, ৫ই জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করায় সারা বিশ্ব যখন আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ইমেজ পূনরূদ্ধারের জন্য সিটি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে তখনও এই কমিশন সরকারিদলের নতজানু ক্রীতদাসের মতই আচরণ করছে। বিধি ভেঙ্গে জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের সময় প্রধানমন্ত্রী সমর্থিত প্রার্থী সাইদ খোকন ভোট চাইতে পারে কিন্তু ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আনজুমান আরা রবের পক্ষে স্থানীয় বটতলা মসজিদের সামনের রাস্তায় লিফলেট বিতরণ করায় প্রচার কর্মীদের আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রার্থীদের দাবির মুখে নির্বাচনে মাত্র চার দিনের জন্য সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারের ধমকের কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন সেনাসদস্যদের ব্যারাকেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কতটা আজ্ঞাবহ ও দেউলিয়া হলে নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাসে নিকৃষ্ট নজীর হয়ে থাকবে। সেনাবাহিনী যদি ব্যারাকে থেকেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারে তাহলে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিও নিজ নিজ থানা, ফাঁড়ি ও দফতরে বসে থাকলে জনগণই ভোটকেন্দ্র পাহারার দায়িত্ব নিতে পারবে।
জামায়াত নেতা আরো বলেন, দখলদার সরকারের মতলব ছিল ৫ই জানুয়ারি স্টাইলে একতরফা নির্বাচনের প্রহসনের মাধ্যমে ৩ সিটি করপোরেশনকে দলীয় দখলে নেয়ার। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় শাসকগোষ্ঠী চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই কদমতলী এলাকায় ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাফেজ আহমাদ হাসানকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা খানমের লোকজন।
নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া তো দূরের কথা, ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাসের মাধ্যমে কেন্দ্র দখল কিংবা সরকারীদলের প্রার্থীদের পক্ষে কোনো সাজানো রেজাল্ট দেয়ার চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সাথে নিয়েই তার জবাব দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
কেএইচ





