দেশের আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কর্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

তিনি বলেন, গত শনিবার কুমিল্লায় ২০ দলীয় জোটের এক জনসভায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ট্রেনিং, অস্ত্র ও গুলি না দেয়ার জন্য বিদেশীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। তা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রবিরোধী। এ অবস্থান থেকে খালেদা জিয়া সরে না আসলে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

নানক বলেন, আমরা গভীর ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বিএনপি ও জামায়াত জোটের নেত্রী খালেদা জিয়া নিজের অতীত অপকর্ম, দুঃশাসন আড়াল করতে অতি সম্প্রতি মাত্রাতিরিক্তভাবে অসত্য, অসৌজন্যমূলক, অশোভন এবং তথ্য বিকৃতির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসীর কাছে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দূরভিসন্ধিমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা তার এই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য, কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল নিষ্ঠুর, পৈশাচিক, ভয়ংকর সব ইতিহাসের নির্মাতা বিএনপি। গণতন্ত্র হত্যাকারী বিএনপি তাদের মুখোশের আড়ালে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, উট পাখির ন্যায় মুখ লুকিয়ে গণতন্ত্র ও সুশাসন বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের রুদ্ররোষ থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জামায়াত-বিএনপি রেহাই পাবে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন পরিবর্তনের কথা বলে তিনি কি নতুন করে হাওয়া ভবন তৈরির ইঙ্গিত করেছেন। পুনরায় তার কু-পুত্র তারেক রহমানকে দুর্নীতির বরপুত্র রূপে বাংলার জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে চান।

সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারকে খুনি সরকার বলেছেন। অথচ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রতিহত করার নামে সারাদেশে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে তিনি নিজেই খুনি হিসেবে জাতির সামনে নিজেকে তুলে ধরেছেন।

বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের সামনের কাতারে থাকার কথা বললে বাংলার জনগণ গত ২৯ ডিসেম্বর জনগণের আস্থাবিহীন কর্মসূচি ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসির কথা' স্মরণ করে। যেদিন বেগম খালেদা জিয়া সারা বাংলার জনগণকে ঢাকা শহরে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজেই ঘর থেকে বের হননি।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করার জন্য বদ্ধ পরিকর। সংলাপ বলেন আর যা কিছুই বলেন না কেন সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার আছে একমাত্র সংসদের। বেগম খালেদা জিয়া যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি করেন সেটার ফলাফল তো উচ্চ আদালত দিয়েই দিয়েছেন। তারপরেও যদি কিছু করতে হয় সেটা এই সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে।

অথচ তিনি বারবার বলছেন এই সংসদ অবৈধ এই সংসদের কোন আইনই পাশ করা হবে না। তাহলে নতুন আইন করে যদি কোন নির্বাচন করতে হয়, সেটা কারা তৈরি করবেন বা কোথায়ইবা সেটা পাশ হবে। বেগম খালেদা জিয়ার এই ধরনের স্ববিরোধী কথা বাংলার জনগণ কখোনই বিশ্বাস করেনি।

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন নাকি তার কাছে গিয়েছিলেন তাকে ক্ষমতায় বসানোর তকমা নিয়ে। এ থেকে বোঝা যায় বাংলার জনগণের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার কোন ভরসা নেই। তার ক্ষমতায় যেতে হলে জনগণের ভোট লাগে না। উনাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের দিন শেষ। বাংলার জনগণের দিন শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। তখন আর ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনদের দিয়ে কোনদিন ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দি, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।

 

 

এমআর/ এআর