আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন,জিয়াউর রহমানের লাশকে পুজি করে এরশাদের কাছ থেকে মা-ছেলে (খালেদা-তারেক) দর কষাকষি করে সুবিধা নিয়েছে। একবারের জন্যও তারা জিয়ার মুখ দর্শন করেনি।এমনকি যেখানে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। সেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে খালেদা জিয়া একবার গেলেও তার পুত্র তারেক  রহমান একবারের জন্যও সেখানে যাননি।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে “ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত” ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে কৃষিমন্ত্রী বলেন,আপনারা বলছেন উপজেলা নির্বাচনে সরকার এই করেছে,সেই করেছে। নির্বাচনে যদি সরকার হস্তক্ষেপ করতো তাহলে জামায়াত এতগুলো আসন পেল কি করে। যদি কিছু হয়েই থাকে তাহলে কোর্টে যান প্রমাণ করুন।
তিনি বলেন,খালেদা-তারেক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ছিন্নভিন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তা কখনো হতে দেবেনা। একজনে গড়ে আরেকজনে ভাঙ্গে। এখন কৃষিখাতে এত উন্নয়ন হয়েছে যে শ্রমিক-কৃষকদের শেখ হাসিনা ডাক দিলে জীবন দিতেও প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৫০০ ডলার। বর্তমানে তাদের আয় হচ্ছে ১১ শ ডলার। তাই মানুষ তার স্ত্রী-সন্তানদের সাদ মেটাতে পারছে। যারা ভাঙ্গে তারই হলো আইএসআইয়ের আসল এজেন্ট।
মতিয়া বলেন,বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ বিভাগকেও হার মানিয়েছে। বর্তমান সরকার তিন হাজার ২ শ মেঘাওয়াট থেকে ১১ হাজার মেঘা ওয়াটে উন্নত করেছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে ৪২ শ মেঘাওয়াট উৎপাদন রেখে গিয়েছিল সেখান থেকে বিএনপি ৩২ শ মেঘাওয়াটে নামিয়ে এনেছে।
তিনি আরও বলেন,রাজাকাররা সব সময় হারছে, আবারও হারবে আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিতবে। যতই বাধা আসুক দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তা কেউ রুখতে পারবে না।
ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন,বিএনপি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের দল। বাংলাদেশে এদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। এরা গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এদের রাজনীতিক ভাবে মৃত্যু না হলে এদের ষড়যন্ত্র থামবে না। খালেদা জিয়া যতই চেষ্টা করুক জামায়াতকে রক্ষা করতে পারবেনা।
তিনি বলেন,বিএনপি যদি একটা রাজনৈতিক ইতিহাস দেখাতে পারে তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তাদের ইতিহাস সন্ত্রাস ও খুনের ইতিহাস। শয়তান সারাদেশের মানুষকে নিয়ে খেলা করছে। আর খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে খেলছে।
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল বলেছেন,যারা  মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস করেনা। তারা আমাদের বন্ধু হতে পারেনা। বিএনপি স্বাধীনতা বিশ্বাস করেনা বলেই ইতিহাস বিকৃত করছে। হঠাৎ করে তারা আবার কোনদিন যেন বলবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস নয়। ৭১’এর ঘাতকরা বিএনপি-জামায়াতের ঘাড়ে উঠে এখনও তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,বিএনপির আন্দোলন করার কোন সাংগঠনিক শক্তি নেই। স্পস্ট করে বলতে চাই ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন হবেনা। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৫ বছর পর আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে।  
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম,তথ্য এ গবেষনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন,ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া,মুকুল চৌধুরী,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম,আওলাদ হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ প্রমুখ।
[b]ঢাকা, এমআর, ১৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]