‘বিএনপির আমলে স্কুল-কলেজে নিয়োগ পাওয়া সকল শিক্ষককে বের করে দেওয়া উচিৎ’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এক সভায় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এছাড়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝোলানোর চেষ্টা করেছেন হাজী সেলিমের অনুসারীরা। শুক্রবার দুপুরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মারধরের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে তালা দেওয়ার চেষ্টা চালান তারা। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলে তা দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন হাজী সেলিম।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারি করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীও একসময় ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই ঘোষণার পর সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলতি বছরের শুরু থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বেতন ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে চার টাকা ও ১২ টাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে তারা এখন পর্যন্ত বেতন পাননি। তাঁরা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে বেতনের টাকা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের বেতন কমানোয় বিগত ছয় মাস ধরে তারা স্কুলের ফান্ড থেকেও বেতন পাননি।

উপায়ান্ত না দেখে বেতনের জন্য শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা চালান। এ জন্য বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডি ও শিক্ষকরা সরকারি উচ্চ পর্যায়ে ঘুষ প্রদানসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহ করতে কলেজ শিক্ষকদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, স্কুল শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী টাকা তুলে তহবিলও সংগ্রহ করেন তারা।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শুক্রবার দুপুরে শিক্ষকদের নিয়ে এক জরুরি সভার আয়োজন করা হয়।

সভার পূর্বে একাধিক বডিগার্ডসহ (অস্ত্রধারী) অর্ধশত অনুসারী নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেন হাজি সেলিম।

সভায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে হাজী সেলিমের অনুসারী আনোয়ার হোসেন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এমনকি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডোরিন সুলতানার সঙ্গেও তিনি রুঢ় আচরণ করেন।

সভার এক পর্যায়ে হাজী সেলিম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডোরিন সুলতানাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে এখানে যোগদান করেছেন?

এ সময় শিক্ষিকা সম্মতি জানালে তিনি আবারও জিজ্ঞাসা করেন, কোন পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি ছিল? আমাকে দেখাবেন। আপনার কাগজপত্রও দেখাবেন।

এরপর হাজী সেলিম আবারও প্রশ্ন করেন, আপনি যখন এ কলেজে যোগ দেন তখন কে ক্ষমতায় ছিল?

ডোরিন সুলতানা এ সময় নাসির উদ্দীন পিন্টুর (যদিও তিনি নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনের সময়) কথা বললে হাজী সেলিম বলেন, ‘পিন্টুর সময় আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির আমলে নিয়োগ পাওয়া সব শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া উচিৎ।’

এ ছাড়াও তিনি সভায় প্রধান শিক্ষিকাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বলেন। না হলে কিভাবে স্কুল চলে তা দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে তোলা টাকা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডোরিন সুলতানা হাজী সেলিমের সামনেই বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাকে সরানোর ক্ষমতা রাখেন না।’ তবে শিক্ষকদের কাছ থেকে তোলা টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভাশেষে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন এবং ম্যানিজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জাফরকে লাঞ্চিত করেন হাজী সেলিমের অনুসারীরা। উভয়পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনার সময় হাজী সেলিমকেও আঙ্গুল উচিয়ে মোহাম্মদ জাফরের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে।

ঘটনার এক পর্যায়ে হাজী সেলিমের অনুসারীরা স্কুলের ফটকে তালা লাগানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু বাঁধার মুখে তারা তালা লাগাতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে ঘটনা চলাকালীন স্কুল ত্যাগ করেন হাজী সেলিম। এর কিছুক্ষণ পর পুনরায় স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন তার অনুসারীরা।

ঢাকা, ২৬ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ