শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীর ফয়জুরের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের অভিযান চালিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)।  

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ফয়জুরের ভাড়া বাড়িও অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় ফয়জুরের মামা সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ফজলুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এখান থেকে একটি ল্যাপটপও জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, সুনামগঞ্জ র‌্যাব জানায়, হামলাকারী ফয়জুলের চাচা আবুল কাহার লুলইকে আটক করা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ মার্চ) রাত ১২টার দিকে দিরাইয়ে এবং সাড়ে ১২টার দিকে শেখপাড়ায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান।

ওসি শফিকুর রহমান জানান, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ওই বাসাটিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সে সময় বাসাটি বাইরে থেকে তালা লাগানো থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তালাবদ্ধ বাসার ভেতরে ফয়জুরের মামা ফজলুর রহমান অবস্থান করছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাত সোয়া ১ টার দিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। 

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ র‌্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার ফয়সাল আহমেদ বলেন, “ফয়জুলের বাড়ি তালাবন্ধ, সেখানে কেউ নেই। পাশের বাড়ি থেকে তার চাচা  আবুল কাহার লুলইকে আটক করা হয়। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।”

শনিবার (৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পেছন থেকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন তার পিছনেই দাঁড়িয়ে থাকা আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পরে তাকে শিক্ষার্থীরা ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রাতেই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকায় পৌঁছেই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়।

আইএসপিআর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর রোববার বেলা ১১টার দিকে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হবে।

এমবি