সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বিচারকদের ভয় দেখাতেই অভিসংশন আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আপনারা যা মনে খুশি করেন কিন্তু মনে রাখবেন কোনো কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সুচাগ্র মেদেনি’।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অপসারন ক্ষমতা (অভিশংসন আইন) সংসদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে ২০ দলের প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের জনগণ এখন শান্তিতে নেই দাবী করে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আপনারা সব কিছুতেই এত তাড়াহুড়া করছেন কেন? শুনছি আরও নতুন আইন করা হবে কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হবে না।
তিনি বলেন, সরকারকে বলব যদি জনগণের মনের ভাষা বুঝতে চান, তাহলে দেয়ালে কান রাখুন। জনগণ এই অবৈধ সরকারের দ্রুত পতন চায়। তাই অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাদের আমি আগেও বলছি কারও বক্তব্যের সময় স্লোগান দিবেন না। সব স্লোগান জমা রাখুন একদিন এমন স্লোগান দিতে হবে যাতে করে শেখ হাসিনার তখতে তাউস ভেঙ্গে খান খান হয়ে পড়ে।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন,এক দলীয় শাসনকে পাকাপোক্ত করার জন্যই তাড়াহুড়া করেই এই সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অপসারন করার ক্ষমতা সংসদের হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন,এই অভিসংশন আইন করার জন্য সংবিধান সংশোধন করার মাধ্যমে সরকার সংবিধান লঙ্ঘনের মত গুরুতর অপরাধ করতে যাচ্ছে।
অভিশংসন আইনের সমালোচনা করে যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘জনগণ তো নয়ই,বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। বিচারকরা যাতে সরকারের পুতুল হিসেবে কাজ করে,সে জন্য প্রয়োজন না থাকা স্বত্ত্বেও অভিশংসন আইন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনতে পারলাম, সেপ্টেম্বরে একটি নির্বাচন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে জন্য প্রশাসন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছু নিয়ন্ত্রনে আনতে একের পর এক বিতর্কিত আইন করা হচ্ছে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ভেল্কিভাজি আর চলবে না।’
বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করার জন্য সরকার অভিশংসন আইন করছে-অভিযোগ করে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘এই আইন যে দিন পাশ হবে সে দিন সংবিধান ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সংবিধান ধ্বংসের জন্য জনগণ শেখ হাসিনা সরকারের বিচার করবে।’
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এম ওসমান ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ,জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক তাসলীম আলম,মাওলানা আমিনুল ইসলাম,সেলিম উদ্দিন,জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার,খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের,এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা,ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান এ্যাড. গরীবে নেওয়াজ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান,বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মুসলীম লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জুলফিকুর চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহম্মেদ,জমিয়তে উলামার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুহিউদ্দিন আকরাম।
এছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন,অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম,আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম,যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী,স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু,ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল,সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব,মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা,এমএইচ,১১ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





